
মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার, গাজীপুর প্রতিনিধি
দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে মৌচাক, তেলিরচালা, চন্দ্রা ও হরতকিতলা এলাকার গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোর চাহিদাই ১২০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি ও গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
ফলে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় রেশনিং করে বিভিন্ন এলাকায় সংযোগ সচল রাখা হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা, কৃষি, স্বাস্থ্য, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কালিয়াকৈর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বর্তমানে চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াকৈর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনরা তীব্র গরমে হাতপাখা ও ফাইল দিয়ে বাতাস করছেন। এতে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া তানসিম আক্তার মুনমুন জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন, রোগীদের নেবুলাইজার দেওয়া, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, এক্স-রে ও প্যাথলজি পরীক্ষা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে জেনারেটরও প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটে মৌচাক, চন্দ্রা ও হরতকিতলা এলাকার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, শ্রমিকদের কাজের ধারাবাহিকতা এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, কালিয়াকৈর দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলতে থাকলে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় গাজীপুরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ তীব্র লোডশেডিংয়ের কবল থেকে দ্রুত মুক্তি এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।