
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা এর জলিলপাড় এলাকায় গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে বিভ্রান্তি ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জেলার কোথাও গরুর মাংস বিক্রিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই।
ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী আলমগীর কসাইয়ের একটি লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তিনি জেলা প্রশাসকের নিকট দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, দক্ষিণ জলিলপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লির অনুরোধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছেন। এতে স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ সহজেই গরুর মাংস সংগ্রহ করতে পারতেন।
আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, গত ১৫ মে ২০২৬ শুক্রবার দুপুরে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরোঙ্গ দেব তাকে গরুর মাংস বিক্রি না করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হুমকি দেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরোঙ্গ দেব বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি আলমগীর কসাইকে স্পষ্টভাবে জানান যে, কোথাও গরুর মাংস বিক্রি বা জবাই করা নিষিদ্ধ নয়। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার স্বার্থে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোকানের সামনে গরু জবাই বা মাংস বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে মোঃ হাবিবুল্লাহ বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার কোথাও গরুর মাংস বিক্রিতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ নেই। তিনি আরও জানান, কোনো বাজারে কোন পণ্য বিক্রি হবে বা হবে না— সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসন ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। তারা পারস্পরিক সহনশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।