
মোঃ শিহাব উদ্দিন: ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, চার চালককে সম্মাননা প্রদান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশাগত জীবনে দুর্ঘটনার রেকর্ড না থাকা এবং ধূমপানমুক্ত থাকার শর্তে চার চালককে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে চালক, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, পথচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি পরিহার করা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার ও ধূমপান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি পথচারীদেরও রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চার চালককে সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে আয়োজকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও তাঁদের নির্বাচনের বিস্তারিত মানদণ্ড উল্লেখ করা হয়নি।
আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনউদ্দীন আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিরব রায়হান, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব আলম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. মেহেদী হাসানসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকদের মতে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।