বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সকালেই মোংলায় প্রধানমন্ত্রী, খুলনায় গিয়ে যে কর্মসূচিতে অংশ নেবেন ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় নিহত অন্তত ২০ ইউপি নির্বাচনের তালিকা ফের যাচাই করছে ইসি, বাদ পড়েছে কোন ইউনিয়ন? সরকারি চাকরিতে ৩৪৭ পদে নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন এসএসসি পাসেও প্রাথমিক শিক্ষায় ৪১ হাজার কোটি টাকা, সরকারের পরিকল্পনায় থাকছে কী? ঢাবিতে তিন প্রোগ্রামে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি, আবেদন যেভাবে ১০ হাজার ৬৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই, বাস্তবায়ন কতদূর? চা পান করছেন প্রতিদিন, কিন্তু কতটা গরম হলেই বাড়ে ক্যানসারের ঝুঁকি? ই-রিকশা নিবন্ধনে নতুন নিয়ম, প্রথম ধাপে অনুমোদন পাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের

প্রাথমিক শিক্ষায় ৪১ হাজার কোটি টাকা, সরকারের পরিকল্পনায় থাকছে কী?

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০.৩৩ এএম
  • ৯ Time View
16

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ে সব শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) নামের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপকরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কর্মসূচিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে সারা দেশে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা সংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নসংক্রান্ত আলোচনা ও চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ১৫ হাজার ৬৪১টি নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০টি ওয়াশ ব্লক, ১০ হাজার সীমানাপ্রাচীর, ২০টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, ১২৫টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং ১০০টি উপজেলা প্রাথমিক রিসোর্স ট্রেনিং সেন্টার ভবন নির্মাণ করা হবে। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার জন্য বিশেষ শ্রেণিকক্ষ ও অস্থায়ী বিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো মেরামতের উদ্যোগও রয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ২০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল, ওয়াই-ফাই ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগের আওতায় শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ট্যাব, ইন্টারঅ্যাকটিভ প্যানেল ও মাঠপর্যায়ের শিক্ষা দপ্তরের তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ১ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া কমাতেও বড় অঙ্কের অর্থ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পোশাক, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ হাজার ৬৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। পাশাপাশি নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, নলকূপ স্থাপন এবং পানির গুণগত মান পরীক্ষার কার্যক্রমও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ‘একটি শিশু একটি গাছ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ রোপণের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভাষা ও গণিতসহ মৌলিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিখনদক্ষতা বাড়ানো এবং নিয়মিত মূল্যায়নব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে কর্মসূচিতে। এ ছাড়া খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও শিক্ষামূলক ভ্রমণের মতো উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তবে এত বড় কর্মসূচির ব্যয় ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বিশেষ করে ৪৩৬ কোটি টাকার বেশি পরামর্শক ব্যয় যৌক্তিকীকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যয় নিয়মিত পরিচালন বা রাজস্ব খাতের অন্তর্ভুক্ত, সেগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগের দুটি কর্মসূচি—পিইডিপি-৩ ও পিইডিপি-৪-এর প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা যুক্ত করে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ একনেকে অনুমোদন পেলেও কর্মসূচির কিছু ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় সংশোধন আসতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026