শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টেকনাফে এক লাখ ইয়াবার মামলায় পলাতক আসামি আটক মিয়ানমারকেন্দ্রিক মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ গোপালগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চালক নিহত শিশুর নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা পরিবার। সমাপ্ত হলো নৌবাহিনীর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান, জব্দ ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম বিরল সীমান্তে ৪২ বিজিবির অভিযানে ১০১ বোতল মদ উদ্ধার নগরকান্দায় মসজিদে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০ গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে ব্যাপক সাফল্য বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত- এসএম জিলানী টেকনাফে মাদক মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার মায়ানমারে পাচারের আগেই ৪০ টন সিমেন্ট জব্দ, আটক ৮

শিশুর নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা পরিবার।

  • Update Time : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০.৩৪ এএম
  • ৫৫ Time View
61

নাজমুল হক,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি।

একটি শিশুর জীবনের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো তার পরিবার। জন্মের পর থেকেই শিশু পরিবারের সদস্যদের আচরণ, কথাবার্তা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড দেখে শেখে। তাই শিশুকে সুশিক্ষিত, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, শিশুর সুন্দর চরিত্র গঠনেও পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই সত্য কথা বলা, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা, অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং শৃঙ্খলা মেনে চলার শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা উপদেশের চেয়ে বড়দের আচরণ অনুকরণ করে বেশি শেখে। তাই বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিজেদের আচরণে সততা, শালীনতা, ধৈর্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিচয় দিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, অশালীন ভাষার ব্যবহার কিংবা অসহিষ্ণু আচরণ শিশুর কোমল মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ অবস্থায় শিশুদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটানো, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝিয়ে বলা জরুরি। পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, বই পড়ার অভ্যাস, খেলাধুলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
শিশুর ভুল হলে তাকে অপমান বা শারীরিক শাস্তি না দিয়ে ভালোবাসা ও ধৈর্যের সঙ্গে ভুলটি বুঝিয়ে দেওয়া উচিত। অন্যের অধিকারকে সম্মান করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হওয়ার শিক্ষাও পারিবারিক জীবনের অংশ হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। শিক্ষকরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিলেও সেই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ ও মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করতে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সচেতন অভিভাবক, সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ এবং সঠিক দিকনির্দেশনাই পারে একটি শিশুকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। কারণ, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। তাই শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তার মনে সততা, মানবিকতা ও নৈতিকতার বীজ বপন করাও প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব।

চন্দ্রা সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার দাস বলেন, শিশুর প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি হয় পরিবার থেকেই। পরিবার হলো শিশুর প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর বাবা-মা হলেন তার প্রথম শিক্ষক। শিশুকে শুধু ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তুললেই হবে না, তাকে নৈতিকতা, মানবিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষাও দিতে হবে। বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে বই পড়া, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করলে শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026