
বিশেষ প্রতিনিধি: সুমাইয়া নূর প্রভা- আজকের জাগরণ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার সোনালী ব্যাংক এলাকা থেকে কমলাপুর ব্রিজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ইজিবাইক, অটোভ্যান, বাস, ট্রেকসহ বিভিন্ন যানবাহনের যত্রতত্র অবস্থান ও অনিয়ন্ত্রিত যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রায়ই যানজটে অচল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ব্যস্ততম চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় সড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখায় চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
এতে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও আলোচনা হলেও কিছুদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোনালী ব্যাংক থেকে কমলাপুর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন রোগী, স্বজন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইক, অটোভ্যান, বাস, ট্রেক ও অন্যান্য যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চৌরঙ্গী মোড়ের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধ ও পাশাপাশি ইজিবাইক, অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক চালক মূল সড়কের ওপরই গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে সড়কের কার্যকর অংশ কমে যাচ্ছে এবং পেছনে থাকা যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে একাধিক দিক থেকে আসা যানবাহন একই স্থানে আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন ও স্থানীয় যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা যাত্রী ওঠানামার নির্ধারিত স্থান না থাকায় চালকেরা সুবিধামতো জায়গায় গাড়ি দাঁড় করাচ্ছেন। ফলে যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই সড়কে প্রতিদিনই ইজিবাইক, অটোভ্যান, বাস ও ট্রেকসহ বিভিন্ন যানবাহনের কারণে যানজট হয়। এ নিয়ে আগেও সংবাদ হয়েছে। কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
আরেক পথচারী বলেন, “হাসপাতালের দিকে যাওয়ার জন্য এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যানজটের কারণে অনেক সময় রোগী বহনকারী গাড়িকেও ধীরগতিতে যেতে হয়। ব্যস্ত সময়ে রাস্তা পার হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, বিভিন্ন যানবাহন দোকানের সামনের সড়কে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় ক্রেতা ও পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হয়। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, সড়কের অব্যবস্থাপনা, সংকীর্ণ অংশ এবং ইজিবাইক, অটোভ্যান, বাস, ট্রেকসহ বিভিন্ন যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান মিলিয়ে সমস্যাটি আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে সড়কের যেসব অংশ ভাঙাচোরা কিংবা সংকুচিত, সেখানে যানবাহনের চাপ বাড়লেই দ্রুত যানজট তৈরি হচ্ছে।
বাসিন্দাদের দাবি, সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইজিবাইক, অটোভ্যান, বাস, ট্রেক ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত স্থান ছাড়া সড়কের ওপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, শুধু সাময়িকভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। হাসপাতালমুখী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সড়কের অবস্থা পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার, নির্দিষ্ট যানবাহন স্ট্যান্ড স্থাপন এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সড়কটিতে স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরে আসবে এবং রোগীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।