
মো. মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
অন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটে জৈব সার বাজারজাতের দায়ে জরিমানার তিন সপ্তাহ পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের হোগলডাঙ্গা গ্রামের মেসার্স জামান এগ্রো ফার্ম থেকে আবারও বিপুল পরিমাণ পণ্য জেলার বাইরে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিজস্ব প্যাকেটে পণ্য বাজারজাতের সরকারি নির্দেশনা প্রতিষ্ঠানটি যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত না করেই নিয়মিত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাকভর্তি পণ্য পাঠানো হচ্ছে।
গত ১৪ আগস্ট জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি অভিযানে মেসার্স জামান এগ্রো ফার্মে অনুমোদিত নিজস্ব প্যাকেটের পরিবর্তে অন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাকেট ব্যবহার করে জৈব সার বাজারজাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। তখন প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ এবং নিজস্ব প্যাকেটে পণ্য বাজারজাত করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানাটির সামনে একটি ট্রাকে সাদা বস্তায় প্রায় ২০ টন জৈব সার হিসেবে বর্ণিত পণ্য তোলা হয়। পরে ট্রাকটি রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেয় বলে তাঁরা জানান।
তবে ওই চালানে থাকা পণ্যের উপাদান ও মান, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান লাইসেন্সের অবস্থা এবং প্যাকেটজাতকরণে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
অভিযান, জরিমানা ও নির্দেশনার পর প্রতিষ্ঠানটি কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে ওই পণ্য বাজারজাত ও জেলার বাইরে পাঠাচ্ছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পণ্যটির মান পরীক্ষা এবং লাইসেন্স ও প্যাকেজিংয়ের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।