শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে খান্দারপাড়ায় বিএনপির কর্মী সমাবেশ, উন্নয়নে একাধিক আশ্বাস এমপি সেলিমুজ্জামানের হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’ নিজের অর্থ-শ্রমে মানুষের পাশে, গোপালগঞ্জের ‘মানবিক তপন ঘোষ’ মুকসুদপুর এসজে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: এলজিআরডি মন্ত্রী চায়না জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, মুকসুদপুরের খান্দারপাড়ায় ১৭টি জাল উদ্ধার ও ধ্বংস মুকসুদপুরের গোবিন্দপুরে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি মুকসুদপুর কলেজে অভিভাবক সমাবেশ মুকসুদপুরে শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পাঁচ মাস ধরে সাময়িক বরখাস্ত, তদন্ত প্রতিবেদন হয়নি নীলফামারী চেম্বারের সভাপতি মাহবুব, সিনিয়র সহসভাপতি রাজু, সহসভাপতি স্বপন

হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’

  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২.৫৯ পিএম
  • ২৫ Time View
হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’
হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’
49

আরিফুল ইসলাম আরিফ, নীলফামারী প্রতিনিধি:

হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে প্রতিদিন ভোর হয় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শতবর্ষী এই পাখির আবাসস্থলের কারণে গ্রামটি এখন সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘পাখির গ্রাম’ নামে।

চারদিকে সবুজের সমারোহ। মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক বাঁশঝাড়। আর সেই বাঁশঝাড়জুড়ে বাসা বেঁধেছে বক, পানকৌড়ি, রাতচোরা, ঘুঘু, শ্যামা, দোয়েল, শালিক, বাবুই, চড়ুইসহ নানা প্রজাতির পাখি। সারাদিন তাদের কলকাকলিতে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এসব পাখি এখানে বসবাস করে আসছে। পাখিদের কারণেই পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের পরিচয় বদলে গেছে। এখন দূর-দূরান্তের মানুষও গ্রামটিকে ‘পাখির গ্রাম’ নামেই চেনেন।

ডোমার উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলাহাটিতে প্রায় ৪ একর ২০ শতক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বাঁশঝাড়কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে পাখিদের নিরাপদ আবাস। বাঁশঝাড়ের মালিকরাও এর পাশেই বসবাস করেন। তাদের ভাষ্য, পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এখানে পাখিরা বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও যেন পাখিগুলো নিরাপদে থাকতে পারে, সে জন্য তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

রাতভর বাঁশঝাড়ে অবস্থান করে পাখিরা। ভোর হতেই কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখর করে খাবারের সন্ধানে উড়ে যায়। পাখিদের কলতানেই প্রতিদিন ঘুম ভাঙে গ্রামের মানুষের। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ভিড় করেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা।

তবে যুগের পর যুগ নিরাপদে বসবাস করে আসা এই পাখিগুলো এখন নানা হুমকির মুখে। অবৈধ শিকার ও পরিবেশগত কারণে দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাঁশঝাড়ের মালিকসহ এলাকার সচেতন মানুষ।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, স্থানীয় পাখির পাশাপাশি শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিও এসে এই পাখির গ্রামে আশ্রয় নেয়। তবে অবৈধ শিকার, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে শতবর্ষী এই প্রাকৃতিক পাখির আবাসস্থল অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়তে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাখিদের সংরক্ষণ ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2024