
সামসু উদ্দিন বাবু, কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি:
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকট—দুটি বড় বাধাকে সঙ্গী করেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর মাগুরা এলাকার দুই বোন সুপ্রিয়া সিনহা ও প্রিয়ন্তী সিনহা। প্রতিকূলতার মধ্যেও বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের স্বপ্ন লালন করছেন ছোট বোন প্রিয়ন্তী।
রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) জানা যায়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সুশীলা রাণী সিনহা দম্পতির দুই মেয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের কারণে বড় বোন সুপ্রিয়া নিজের উচ্চশিক্ষা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে এগিয়ে নিতে পারেননি। তবে নিজের স্বপ্নকে পাশে রেখে ছোট বোন প্রিয়ন্তীকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রিয়ন্তী সিনহা মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তার প্রস্তুতি ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ কঠিন হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে টিম জার্নালিস্ট। তাদের উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে মাওলানা শাহ সৈয়দ রাশিদ আলী ফাউন্ডেশন এবং মরহুম ডিআইজি জালাল আহমদের পরিবার। এই সহায়তা প্রিয়ন্তীর স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার আলো জুগিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাদের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত ভূমি অফিস সহকারী। বর্তমানে চার সদস্যের পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে। নানা অভাব-অনটনের মাঝেও দুই বোন শিক্ষা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি।
প্রিয়ন্তীর লক্ষ্য বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রাখা এবং সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
সুপ্রিয়া ও প্রিয়ন্তী সিনহার জীবনসংগ্রাম প্রমাণ করে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই মেধা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারে না। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তাদের এই লড়াই সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।