
সামসু উদ্দিন বাবু :কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়পাশা গ্রামের কৃতি সন্তান ইশতিয়াক মাহমুদ রুহান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেছেন। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-এর ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে তিনি এই গৌরব অর্জন করেন।
গত ১৮ জুন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনপ্রাপ্ত হন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। কমিশনপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের কয়েকজন ক্যাডেটও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন।
ইশতিয়াক মাহমুদ রুহানের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, বরং কুলাউড়া উপজেলার জয়পাশা গ্রামের জন্যও এক গর্বের বিষয়। তাঁর সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা দিচ্ছেন অনেকে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীরা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে ইশতিয়াক মাহমুদ রুহানের এই অর্জন এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তারা তাঁর উজ্জ্বল কর্মজীবন, সুস্বাস্থ্য এবং দেশের সেবায় সফলতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ শেষে নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। পরে তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা র্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন লেফটেন্যান্ট ইশতিয়াক মাহমুদ রুহান।