
মুকসুদপুর উপজেলা (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর এক ইজিবাইক (অটো) চালকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নেমে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ চালক শহিদুল মাতুব্বরের মরদেহ।
নিহত শহিদুল মাতুব্বর (৪০) মুকসুদপুর পৌরসভার কমলাপুর গ্রামের মৃত ছালাম মাতুব্বরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থানীয় এলাকায় বসবাস করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন সকালে শহিদুল মাতুব্বর প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু দিন শেষে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে একই এলাকার নূর হোসেন মাইকেল ও পলাশ নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এসআই আব্দুস সালাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার কালা মৃধা সড়কের পাশের একটি জলাশয়ে অভিযান চালান। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ওই জলাশয় থেকে শহিদুল মাতুব্বরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, একজন নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটন এবং এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।