শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আল-ফজর সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এক হাজার গাছের চারা বিতরণ নীলফামারীর অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়েছে মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব সোহেল খন্দকারের নির্বাচন ইশতেহার ডিজিটাল সেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুকসুদপুরে নারিকেল চারা বিতরণ গোপালগঞ্জে ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের উদ্বোধন ও যাকাতের চেক বিতরণ মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ার আহ্বান নীলফামারীতে ৫০০ অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার অর্থ বিতরণ কুলাউড়ায় বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবের মরদেহ দেশে ফেরত গোপালগঞ্জে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নীলফামারীর অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়েছে

  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫.১৭ পিএম
  • ২৬ Time View
নীলফামারীর অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়েছে
নীলফামারীর অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়েছে
41

আরিফুল ইসলাম আরিফ নীলফামারী প্রতিনিধি।

নীলফামারী জেলার অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়ে অল্প পানিতেই ভরাট হয়ে পড়েছে। অনেক নদী এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, পার হতে হাঁটুজলের বেশি পানি পাওয়া যায় না। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি, নদী দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত খননের কারণে জেলার নদীগুলো তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ ও বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে।

শুষ্ক মৌসুমে জেলার বেশিরভাগ নদী ফসলি জমিতে পরিণত হয়। নদীর তলদেশ ও তীর দখল করে ইরি ও বোরো ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, কুমড়া, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে বর্তমানে ৩০টি মরা ও প্রবাহমান নদ-নদী রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা, বুড়িতিস্তা, চাড়ালকাটা, বুড়িখোড়া, ধুম, বামনডাঙ্গা, পাঙ্গা, কুমলাই, নাউতারা, যমুনেশ্বরী, ইছামতি, খড়খড়িয়া, ধাইজান ও চিকলী উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উজান থেকে আসা পলি-বালি, অব্যাহত দখল ও দূষণের কারণে নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বাইরে থেকে নদীগুলো পানিতে পরিপূর্ণ মনে হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে নেমে এসেছে হাঁটুজল পর্যন্ত।
নদী রক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভারাইন পিপল বাংলাদেশের পরিচালক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় অবৈধ মাছের ঘের, খামার ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পলি, বালি, দখল ও দূষণের কারণে নদীগুলো দ্রুত নাব্যতা হারাচ্ছে। একসময় নীলফামারীতে ৩৭টি নদী থাকলেও অব্যবস্থাপনা ও দখলের কারণে ইতোমধ্যে সাতটি নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট নদীগুলো রক্ষায় পরিকল্পিত খনন ও নিয়মিত তদারকির বিকল্প নেই।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান জানান, উজান থেকে আসা পলি ও বালির কারণে চাড়ালকাটা, যমুনেশ্বরী, ধাইজান, খড়খড়িয়া ও চিকলী নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে চর জেগে উঠেছে এবং নদীর ধারণক্ষমতা কমে গেছে।
তিনি বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে দেশব্যাপী নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে আবারও নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো খনন না করা হলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নদীর নাব্যতা সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। চলতি মৌসুমে বড় ধরনের বন্যা না হলেও নদী ভরাট থাকায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধান ও ভুট্টা চাষে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় ভুট্টা চাষি রবীন্দ্র নাথ জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তিনি সময়মতো ভুট্টা সংগ্রহ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অপেক্ষার পর অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল ব্যবহার করে ভুট্টা সংগ্রহ করতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে নিয়মিত পুনঃখননের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক নাব্যতা ও প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ নীলফামারী প্রতিনিধি
তাং:- ১৯/০৬/২০২৬ ইং
মোবাইল:-০১৭১১৪১৮৩১৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2024