
মোঃ ইসমাইল হোসেন পিয়াল, শাহজাদপুর(সিরাজগঞ্জ)| ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চতুর্থ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (১০) আম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সজীব হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে রফাদফা ও ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আয়োজিত একটি গ্রাম্য শালিস পণ্ড করে দিয়েছে থানা পুলিশ। অভিযুক্ত সজীব পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুল তলা গ্রামের বাসিন্দা ও মশিপুর ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় দিন আগে অভিযুক্ত সজীব ওই শিশুসহ আরও তিন সহপাঠীকে আম দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। বাড়িতে স্ত্রী বা অন্য কোনো সদস্য না থাকার সুযোগে কৌশলে বাকি শিশুদের সরিয়ে দেয় সজীব। এরপর ভুক্তভোগী শিশুটিকে একা পেয়ে হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন চালায় সে। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সজীব প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করত। ঘটনার দিন মায়ের নাম করে আম দেওয়ার কথা বলে তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।
ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা ও পুলিশের তৎপরতা
ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্তের বাবা হাফেজ আব্দুল হাই প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শিশুটির পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে বাড়াবিল শিমুল তলা গ্রামে একটি বিতর্কিত শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
গোপন সংবাদ পেয়ে শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক ও রফিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শালিসস্থলে উপস্থিত হলে স্থানীয় মাতব্বর ও অভিযুক্তের স্বজনরা দ্রুত সটকে পড়েন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
”শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আয়োজিত বেআইনি শালিসের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার বর্তমানে থানায় রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। অভিযুক্ত সজীবকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি যারা এই জঘন্য অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।