শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আল-ফজর সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এক হাজার গাছের চারা বিতরণ নীলফামারীর অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়েছে মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব সোহেল খন্দকারের নির্বাচন ইশতেহার ডিজিটাল সেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুকসুদপুরে নারিকেল চারা বিতরণ গোপালগঞ্জে ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের উদ্বোধন ও যাকাতের চেক বিতরণ মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ার আহ্বান নীলফামারীতে ৫০০ অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার অর্থ বিতরণ কুলাউড়ায় বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবের মরদেহ দেশে ফেরত গোপালগঞ্জে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি, বাড়ছে তিস্তার পানি—ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

  • Update Time : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১.৩৬ পিএম
  • ১৮৭ Time View
উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি, বাড়ছে তিস্তার পানি—ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি, বাড়ছে তিস্তার পানি—ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
270

আরিফুল ইসলাম আরিফ নীলফামারী প্রতিনিধি: আজকের জাগরণ 

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যখন ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র বিরাজ করছে উত্তরের রংপুর বিভাগে। বিভাগটির রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম জেলায় টানা মেঘের গর্জন ও অবিরাম বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন জেলা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে একই সময়ের মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৪৭ মিলিমিটার এবং ডিমলায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন হাকিম।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, দিনাজপুরে ৩৩ মিলিমিটার, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৩ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

নীলফামারীতে শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া দমকা হাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি রোববার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির স্তর ছিল ৫০.৪৫ সেন্টিমিটার, যা রোববার সকাল ৯টায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০.৭০ সেন্টিমিটারে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২.১৫ সেন্টিমিটার।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গেজ রিডার নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানির স্তর আরও বাড়তে পারে।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম জাকারিয়া জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত সদরে ৫৮ মিলিমিটার, ডালিয়া পয়েন্টে ১৮ মিলিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উত্তরাঞ্চলসহ সংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে, যা সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষকরা। ডিমলার চরখড়িবাড়ি ও ঝাড় সিংহেশ্বর এলাকার কৃষকরা জানান, তাদের জমিতে ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, বোরো ধান, মিষ্টিকুমড়া ও বিভিন্ন শাক-সবজি রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এসব ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

এ পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তার পানি আরও বাড়ার আগেই চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত ফসল ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2024