
নিজস্ব প্রতিনিধি : আজকের জাগরণ
গোপালগঞ্জ জেলা ৫ টি উপজেলা—গোপালগঞ্জ সদর, মুকসুদপুর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া ও কাশিয়ানী নিয়ে গঠিত। জেলার এসব উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিন-রাত জুড়ে এমন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক কাজ ও ফ্রিল্যান্সিং পেশার সঙ্গে যুক্ত তরুণরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ করতে পারছেন না, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় রাতের বেলায়ও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। এতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
এদিকে কৃষি খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। অনেক এলাকায় বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও সহজ হচ্ছে না। ফলে কৃষকরা জমি চাষাবাদ ও ফসল উৎপাদন নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রিডে চাপ, উৎপাদন ঘাটতি এবং স্থানীয় লাইনের প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ট্রান্সফরমার ও দুর্বল সঞ্চালন লাইনের কারণেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা না হলে এ ধরনের সংকট ভবিষ্যতে আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।