সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সদর কোর্ট ও টুঙ্গিপাড়া থানা পরিদর্শনে অ্যাডিশনাল ডিআইজি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মনগড়া কমিটির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে খান্দারপাড়ায় বিএনপির কর্মী সমাবেশ, উন্নয়নে একাধিক আশ্বাস এমপি সেলিমুজ্জামানের হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’ নিজের অর্থ-শ্রমে মানুষের পাশে, গোপালগঞ্জের ‘মানবিক তপন ঘোষ’ মুকসুদপুর এসজে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: এলজিআরডি মন্ত্রী চায়না জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, মুকসুদপুরের খান্দারপাড়ায় ১৭টি জাল উদ্ধার ও ধ্বংস মুকসুদপুরের গোবিন্দপুরে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি মুকসুদপুর কলেজে অভিভাবক সমাবেশ

দিনরাত দেশের জন্য, তবু অবহেলিত সৈনিক!

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৭.৫২ পিএম
  • ১০৮৬ Time View
দিনরাত দেশের জন্য, তবু অবহেলিত সৈনিক!
দিনরাত দেশের জন্য, তবু অবহেলিত সৈনিক!
1270

নিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের জাগরণ

বর্তমানে বাংলাদেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীতে প্রায় ৮০% সদস্যই সৈনিক।
তাদের পদমর্যাদা ১৭তম গ্রেডে, বেসিক বেতন মাত্র ৯,০০০ টাকা।
অন্যদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে, বেসিক বেতন ১১,০০০ টাকা পান। অথচ ২০০৪ সালে শিক্ষক ও সৈনিক—দুজনেই ১৭তম গ্রেডে সমান বেতনভোগী ছিলেন।

শিক্ষকদের সাপ্তাহিক ডিউটি ৫ দিন, দৈনিক ৭ ঘণ্টা। সরকারি ছুটি, ঈদ-পূজা ও বিভিন্ন দিবসে তারা ছুটি উপভোগ করতে পারেন। অধিকাংশ শিক্ষকের পোস্টিং নিজ এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় পরিবার ও পেশা দুটোই সহজে সামলানো সম্ভব হয়। অনেকেই প্রাইভেট পড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করেন। তারপরও অনেকে আর্থিক সংকটে ভোগেন—যা এক বাস্তব চিত্র।

অন্যদিকে, সৈনিকদের জীবনে নেই নিয়মিত ছুটি, নেই নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা।
তাদের ডিউটি সপ্তাহে ৭ দিনই, দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি।
পিটি, প্যারেড, ওয়ার্কিং, ফেটিগ, রোলকল—এসব তো আছেই; তার সঙ্গে হরতাল, অবরোধ, দুর্যোগ, শত্রুর আক্রমণ কিংবা জাতীয় সংকট—সব সময়ই তারা সামনের সারিতে।

অনেক সৈনিক দুই মাসেও ছুটি পান না, কেউ কেউ ছুটি না পেয়ে মানসিক চাপে আত্মহত্যার পথও বেছে নেন।
তবু তারা কোনোদিন আন্দোলনে নামতে পারেন না, বেতন বৃদ্ধির দাবিও তুলতে পারেন না।

একসময় শিক্ষক ও সৈনিকের বেতন ছিল সমান। এখন শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেড পেয়ে ১০ম গ্রেডের দাবি তুলছেন, অথচ সৈনিকরা এখনও ১৭তম গ্রেডেই পড়ে আছেন।

অনেকে বলেন, সৈনিকদের যোগ্যতা নাকি কম—কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজকের ৯০% সৈনিকই ডিগ্রি বা অনার্স পাস কিংবা অধ্যয়নরত।

আমরা শিক্ষকদের উন্নতির বিরোধী নই। কিন্তু চাই ন্যায়বিচার—ইনসাফ।
যে পেশা দিনরাত পরিশ্রম করেও একই স্থানে পড়ে থাকে, আর অন্য কেউ ক্রমেই সুবিধাভোগী হয়—এটা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।

শিক্ষক যদি হয় মানুষ গড়ার কারিগর, সৈনিক তাহলে দেশ রক্ষার কারিগর।
দুই কারিগরই দেশের সম্পদ—তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2024