বিদ্যুৎ-ওয়াই-ফাই ছাড়াই চলবে নিরাপত্তা ক্যামেরা, দেশে আনল গ্লোবাল ব্র্যান্ড
বাড়ি, খামার কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তায় বিদ্যুৎ ও ওয়াই-ফাই সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় প্রচলিত সিসিটিভি ক্যামেরাকে। তবে দুর্গম এলাকা বা যেখানে বিদ্যুৎ ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সুবিধা নেই, সেখানে নজরদারির ব্যবস্থা করা বেশ কঠিন। এই সমস্যা সমাধানে দেশের বাজারে সৌরবিদ্যুৎচালিত ৪জি নিরাপত্তা ক্যামেরা এনেছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি। ‘টিয়ান্ডি টিসি-এইচ৩৬৩এন ৯ডিবি-৪ ৪জি’ মডেলের ক্যামেরাটি সৌর প্যানেল ও বিল্ট-ইন ব্যাটারির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে ৪জি সিম ব্যবহার করে দূর থেকে নজরদারি করা যাবে।
গ্লোবাল ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পণ্যের তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরাটিতে রয়েছে দুটি ৩ মেগাপিক্সেলের লেন্স। একটি লেন্স দিয়ে নির্দিষ্ট এলাকার দৃশ্য ধারণ করা যায়, অন্যটি প্যানোরামিক ও প্যান-টিল্ট সুবিধার মাধ্যমে তুলনামূলক বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। দুটি লেন্সের সমন্বয়ে মোট ৬ মেগাপিক্সেল রেজল্যুশনে ছবি ধারণের সুবিধা রয়েছে। ক্যামেরাটি সর্বোচ্চ ২৩০৪ × ১২৯৬ পিক্সেল রেজল্যুশনে প্রতি সেকেন্ডে ২০ ফ্রেমে ভিডিও ধারণ করতে পারে।
নজরদারির সুবিধা বাড়াতে এতে রয়েছে ডিজিটাল জুম, অটো-ট্র্যাকিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মানুষ ও যানবাহন শনাক্ত করার প্রযুক্তি। ফলে ক্যামেরার আওতায় কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন চলাচল করলে তা শনাক্ত করে অনুসরণ করতে পারে। বিশেষ করে বাড়ির প্রবেশপথ, খামার, গুদামঘর, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা দূরবর্তী সম্পত্তির নিরাপত্তায় এসব সুবিধা কাজে আসতে পারে।
রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যামেরাটিতে রয়েছে ইনফ্রারেড নাইট ভিশন প্রযুক্তি। নির্মাতার স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, এর ইনফ্রারেড নজরদারির সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩০ মিটার পর্যন্ত। পাশাপাশি Color Maker প্রযুক্তি এবং সাদা আলোর সুবিধাও রয়েছে, যা কম আলোতে দৃশ্যমানতা বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও নজরদারি চালানো সম্ভব।
ক্যামেরাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০ হাজার ৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার রিচার্জেবল ব্যাটারি এবং ৭ দশমিক ৬ ওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ETFE মনোক্রিস্টালাইন সোলার প্যানেল। সূর্যের আলো থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা হয় এবং সেই শক্তি ব্যবহার করে ক্যামেরাটি পরিচালিত হয়। ফলে প্রচলিত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও এটি ব্যবহার করা সম্ভব।
নির্মাতার পরীক্ষাগারভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সুপার পাওয়ার-সেভিং মোডে ক্যামেরাটির ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৩৫ দিন এবং ইন্টেলিজেন্ট AOV মোডে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। তবে এটি পরীক্ষাগারের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পাওয়া ফলাফল। বাস্তবে ব্যাটারির স্থায়িত্ব নির্ভর করবে ব্যবহারের ধরন, ভিডিও ধারণের সময়, নেটওয়ার্কের অবস্থা, আবহাওয়া এবং সোলার প্যানেলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়ার ওপর।
ওয়াই-ফাই সংযোগের প্রয়োজন না হলেও ক্যামেরাটি সম্পূর্ণ ইন্টারনেটবিহীন নয়। এতে ৪জি এলটিই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে এবং সংযোগের জন্য ন্যানো সিম ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ, ক্যামেরাটি যেখানে স্থাপন করা হবে, সেখানে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের ৪জি নেটওয়ার্ক কাভারেজ থাকতে হবে। দূর থেকে লাইভ ভিডিও দেখা ও ক্যামেরা পরিচালনার জন্য EasyLive Plus অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। তাই ৪জি নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে দূর থেকে নজরদারিতে সমস্যা হতে পারে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে এতে বিল্ট-ইন মাইক্রোফোন ও লাউডস্পিকার দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্বিমুখী অডিও যোগাযোগ করা যায়। অর্থাৎ, ব্যবহারকারী দূরে অবস্থান করেও ক্যামেরার সামনে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার মাইক্রোএসডি কার্ডে ভিডিও সংরক্ষণ করা যাবে। ভিডিও ফাইলের আকার কমাতে এতে S+265 ও H.265 কমপ্রেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
বাইরে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি ক্যামেরাটিতে IP65 সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ধুলাবালি ও পানির ছিটা থেকে সুরক্ষার সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে স্থাপনের সময় সোলার প্যানেল যেন পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এবং ক্যামেরা ও সংযোগস্থল যথাযথভাবে স্থাপন করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পণ্যটির সঙ্গে এক বছরের ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি দেওয়ার কথা জানিয়েছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড।
বাংলাদেশে পণ্যটির দাম সম্পর্কে গ্লোবাল ব্র্যান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এখনো নির্দিষ্ট মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন পণ্য তালিকায় দাম নির্ধারিত না থাকার তথ্য দেখা গেছে। ফলে বাজারে কেনার আগে অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সর্বশেষ মূল্য, ওয়ারেন্টির শর্ত এবং ৪জি সিম ব্যবহারের খরচ জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
সৌরবিদ্যুৎচালিত এই ক্যামেরা বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাড়ি, কৃষি খামার, মাছের ঘের, নির্মাণাধীন প্রকল্প, গুদাম এবং বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন স্থানে নজরদারির বিকল্প হতে পারে। তবে কেনার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৪জি নেটওয়ার্কের মান, সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযোগী জায়গা এবং প্রয়োজনীয় স্টোরেজ সুবিধা যাচাই করা জরুরি। বিদ্যুৎ ও ওয়াই-ফাই সংযোগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপত্তা নজরদারির সুযোগ তৈরি করাই এই ক্যামেরার প্রধান আকর্ষণ।