সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পল্লবী থানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণ, ঢাকাজুড়ে আতঙ্ক ভুটান-শ্রীলঙ্কার ড্রয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারে বিশ্বে শীর্ষে ফিলিস্তিন, বাংলাদেশের অবস্থান কত? দেবিদ্বারে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, গাড়ি ভাঙচুর এক ছেলেকে কবর দিয়ে ফিরেই ছোট ছেলের লাইফ সাপোর্টের সামনে বাবা নওগাঁয় ডিবির অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে চাকরি, লটারিতে বাছাই ৩০০ বাংলাদেশি রাষ্ট্রদ্রোহে জড়িতদের তালিকা হচ্ছে, কেউ ছাড় পাবেন না: মন্ত্রী চাকরি খুঁজে হতাশ? হজরত মূসা (আ.)-এর এই দোয়ায় চান কল্যাণ গোপালগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

যানজট, দূষণ ও আবাসন সংকট: আজ বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস

  • Update Time : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০.৫০ এএম
  • ১৬ Time View
27

যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা ও আবাসন সংকট—দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে এসব সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে। পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা এবং মানুষের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ৮ নভেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ‘ওয়ার্ল্ড টাউন প্ল্যানিং ডে’ নামেও পরিচিত। নগর পরিকল্পনার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং পরিকল্পনাবিদদের ভূমিকা তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৪৯ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে অধ্যাপক কার্লোস মারিয়া দেলা পাওলেরা দিবসটি চালু করেন। বর্তমানে বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে চারটি মহাদেশে দিবসটি পালিত হয়।

নগর পরিকল্পনা শুধু রাস্তাঘাট, ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শহরে কোথায় আবাসিক এলাকা হবে, কোথায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, কীভাবে গণপরিবহন চলবে, কোথায় পার্ক ও খেলার মাঠ থাকবে—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে নির্ধারণ করাও এর অংশ। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবার সুযোগ নিশ্চিত করাও পরিকল্পিত নগরায়ণের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণের কারণে শহরগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ এখন শহরাঞ্চলে বসবাস করেন। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শহরগুলোর অবদান প্রায় ৬৫ শতাংশ। তবে জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সঙ্গে আবাসন, পরিবহন, অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর চাপও বাড়ছে।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত গণপরিসর এবং আবাসন ব্যয় নাগরিক জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। অপরিকল্পিত স্থাপনা, জলাশয় ও খাল দখল, ফুটপাতের সংকোচন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নগরের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলছে। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বিদ্যমান পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই নগর গড়তে গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া, হাঁটার উপযোগী ফুটপাত ও সাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা তৈরি, খাল-জলাশয় সংরক্ষণ, পর্যাপ্ত পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান রাখা এবং সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবসের মূল বার্তা হলো—একটি শহর কেবল ভবন ও সড়কের সমষ্টি নয়; এটি মানুষের বসবাস, কাজ, চলাচল ও সামাজিক যোগাযোগের জায়গা। তাই বর্তমানের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026