আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে বড় অবনতি হয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি)। যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডসের (কিউএস) প্রকাশিত ‘কিউএস এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং ২০২৭’-এ আগের বছরের তুলনায় পিছিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ নিয়ে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, গবেষণার সুযোগ, ল্যাব-অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে আধুনিকায়নের ঘাটতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলছে।
গত ৩ নভেম্বর প্রকাশিত এ র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের ১ হাজার ৭২০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তালিকায় পাবিপ্রবি এবার ১৪০১–১৫০০তম ব্যান্ডে রয়েছে। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল ১২০১–১৩০০তম ব্যান্ডে।
প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাবিপ্রবির অবস্থান ৪৫তম। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৪৫২তম, যা গত বছর ছিল ৩৯৭তম। বাংলাদেশের বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাবিপ্রবির অবস্থান নবম। দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কিউএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষণাপত্রে উদ্ধৃতির সংখ্যার সূচকে পাবিপ্রবি ১০০-এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৭ নম্বর পেয়েছে। শিক্ষকপ্রতি গবেষণাপত্রের সংখ্যায় পেয়েছে ৩০ দশমিক ৬ এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে ২৯ দশমিক ৮ নম্বর। এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ১১ দশমিক ৪, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনামে ৫ দশমিক ৬, বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগমনে ১ এবং বিদেশে শিক্ষার্থী বিনিময়ে ১ নম্বর পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. কামিল আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে পাবিপ্রবির পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক। দেশীয় চাকরির বাজার থেকে শুরু করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
তিনি বলেন, গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত ল্যাব-অবকাঠামোর অভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহ থাকলেও উন্নত ল্যাবের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক বা সিমুলেশননির্ভর গবেষণার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
প্রশাসনিক কার্যক্রমের আধুনিকায়নের অভাব নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ফি জমা দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, সনাতনী প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং হল ও ক্যানটিনের অব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি গতানুগতিক পরীক্ষা ও পুরোনো পাঠ্যক্রমের কারণে পাঠ্যবইয়ের বাইরের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগও সীমিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন কামিল আহমেদ। তাঁর মতে, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থার উন্নতি সম্ভব।
স্থাপত্য বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাইছা ইসলাম বলেন, কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির খবরের মধ্যে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আশানুরূপ অবস্থান না দেখতে পাওয়াটা হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী বলেন, কিউএস র্যাঙ্কিং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণ করে। মানসম্মত গবেষণাপত্র প্রকাশ, সাইটেশন বৃদ্ধি এবং বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশনায় র্যাঙ্কিংয়ের অন্যান্য সূচকের উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে পাবিপ্রবি সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করতে পারবে বলে তাঁরা আশাবাদী।