শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় পতন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ৭ মুসলিম গোল করেই কেন কেঁদেছিলেন ইব্রাহিম কেয়ারটেকার মানেন নাই, মেনেছেন; সংস্কার মানেন নাই, মানতে হবে: জামায়াত আমির মেয়াদ পূর্ণ করতে হলে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে স্পর্শের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক রবিউল বললেন, পরীমনি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধ্বংস হয়ে গেল নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ সামান্তা শারমিনের এনসিপি ত্যাগ: প্রশ্ন কেন? ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব’—নিহত সেনাসদস্যের স্ত্রীর আহাজারি ভিনিসিয়ুসের জন্য আমি রিয়ালের ক্ষতি করতে পারি না: মরিনিও

ভারতীয় ভিসা অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম (আপডেট)

  • Update Time : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭.২৭ পিএম
  • ১৮ Time View

ভারতীয় ভিসা অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম (আপডেট)

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ভিসার আবেদন করতে হয়। চিকিৎসা, ভ্রমণ, কেনাকাটা, ব্যবসা, পড়াশোনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা—উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিসার ধরন আলাদা হতে পারে। তবে কোন ভিসার জন্য আবেদন করবেন, অনলাইনে কীভাবে ফরম পূরণ করবেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে, IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে নেবেন এবং আবেদন করতে কত টাকা খরচ হবে—এসব বিষয় না জানার কারণে অনেক আবেদনকারী সমস্যায় পড়েন।

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় অনলাইনে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণের মাধ্যমে। ফরম জমা দেওয়ার পর একটি Application ID এবং PDF ফাইল তৈরি হয়। এই PDF ফাইলকে Webfile বলা হয়। পরবর্তী সময়ে IVAC বা Indian Visa Application Centre-এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালে Webfile ব্যবহার করে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ও কেন্দ্র নির্বাচন করতে হয়। নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মূল পাসপোর্ট নিয়ে IVAC কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়।

অনেকেই মনে করেন, ভারতীয় ভিসার অনলাইন ফরম পূরণ করলেই ভিসা পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে অনলাইন আবেদন, Webfile তৈরি, IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রসেসিং ফি পরিশোধ, কাগজপত্র জমা এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ—সবগুলো ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। কোনো ধাপে ভুল তথ্য দিলে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে।

এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসা অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম, টুরিস্ট ভিসার ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার পদ্ধতি, আবেদন ফি, ভিসার মেয়াদ, আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের নিয়ম বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসার আবেদন কি চালু আছে?

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসার আবেদন কার্যক্রম ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে সীমিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাধারণ টুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। পরে ২০২৬ সালের ২৫ জুন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসার আবেদন পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। ২৮ জুন ২০২৬ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে টুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসার জরুরি আবেদনও মানবিক বিবেচনায় চালু রাখার কথা জানানো হয়।

তবে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়া মানেই প্রত্যেক আবেদনকারী সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবেন বা ভিসা অনুমোদিত হবে—এমন নয়। আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ নির্ভর করে ভিসার ক্যাটাগরি, IVAC কেন্দ্রের কার্যক্রম, অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

সর্বশেষ আবেদন পরিস্থিতি জানতে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টাল অনুসরণ করুন।

ভারতীয় ভিসার অনলাইন আবেদন করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসার আবেদন করতে কয়েকটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হয়। অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ, IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেখা এবং ভিসার আবেদন স্ট্যাটাস যাচাইয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

১. ভারতীয় ভিসার অনলাইন আবেদন ফরম

Indian Visa Online Application

এই ওয়েবসাইটে নতুন ভিসা আবেদন শুরু করা, ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া, ছবি আপলোড, ফরম জমা এবং Webfile তৈরি করা যায়।

২. IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং ওয়েবসাইট

IVAC Appointment Management System

অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর এই পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে Webfile আপলোড, IVAC কেন্দ্র নির্বাচন, অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ নির্বাচন এবং নির্ধারিত প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হয়।

৩. IVAC বাংলাদেশের মূল ওয়েবসাইট

Indian Visa Application Centre Bangladesh

ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রসেসিং ফি, নিরাপত্তা নির্দেশনা, কেন্দ্রের ঠিকানা এবং নতুন বিজ্ঞপ্তি এখানে পাওয়া যায়।

৪. ভারতীয় ভিসার আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই

Visa Status Enquiry

অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর Application ID বা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়ার অবস্থা যাচাই করা যায়।

মনে রাখবেন, ভারতীয় ভিসার অনলাইন আবেদন করার জন্য সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। গুগলে অনেক বেসরকারি ভিসা এজেন্সি বা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে। তবে নিজের আবেদন নিজেই করা সম্ভব; কোনো এজেন্ট বাধ্যতামূলক নয়।

ভারতীয় ভিসার ধরন: কোন ভিসার জন্য আবেদন করবেন?

ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্য অনুযায়ী সঠিক ভিসার ক্যাটাগরি নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটনের জন্য গিয়ে ব্যবসায়িক ভিসা অথবা চিকিৎসার জন্য গিয়ে টুরিস্ট ভিসা নির্বাচন করলে আবেদন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রচলিত কয়েকটি ভিসার ধরন হলো:

ভিসার ধরন

কী কারণে আবেদন করবেন

Tourist Visa

ভ্রমণ, বেড়ানো, কেনাকাটা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা

Medical Visa

ভারতে চিকিৎসা গ্রহণ

Medical Attendant Visa

চিকিৎসাধীন রোগীর সঙ্গে যাওয়া

Business Visa

ব্যবসায়িক বৈঠক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম

Student Visa

ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা

Employment Visa

ভারতে অনুমোদিত চাকরি বা কর্মসংস্থান

Entry Visa

নির্দিষ্ট পারিবারিক বা অনুমোদিত প্রবেশের উদ্দেশ্য

Conference Visa

সম্মেলন, সেমিনার বা কর্মশালায় অংশগ্রহণ

Transit Visa

অন্য দেশে যাওয়ার পথে ভারতে ট্রানজিট

শুধু বেড়ানো, কেনাকাটা, দর্শনীয় স্থান দেখা কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য সাধারণত Tourist Visa প্রযোজ্য। চিকিৎসার জন্য Medical Visa এবং রোগীর সঙ্গে যাওয়ার ক্ষেত্রে Medical Attendant Visa প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক নয়। তাই আবেদন করার আগে IVAC-এর ভিসার ধরন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেখে নিন।

ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় টুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়। আবেদনকারীর বয়স, পেশা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নথির তালিকায় কিছু পার্থক্য হতে পারে।

১. মূল পাসপোর্ট

আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। পাসপোর্টে অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকা প্রয়োজন। আগের পাসপোর্ট থাকলে সেগুলোও আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হতে পারে।

২. সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি

সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে সাম্প্রতিক রঙিন ছবি দিতে হবে। IVAC-এর তালিকায় ২×২ ইঞ্চি ছবির কথা উল্লেখ রয়েছে। অনলাইন আবেদন ফরমে ডিজিটাল ছবিও আপলোড করতে হয়।

৩. জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন

আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি প্রয়োজন হতে পারে। যাঁদের ক্ষেত্রে NID প্রযোজ্য নয়, তাঁদের জন্য জন্মনিবন্ধনের কপি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

৪. বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ

বর্তমান ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস অথবা ল্যান্ডলাইন টেলিফোন বিলের কপি চাওয়া হতে পারে। ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কোন ধরনের নথি গ্রহণযোগ্য, তা IVAC-এর সর্বশেষ নির্দেশনা থেকে যাচাই করুন।

৫. আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ

ভারতে ভ্রমণের খরচ বহন করার সামর্থ্য দেখাতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের তথ্য দিতে হতে পারে।

IVAC-এর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রকাশিত টুরিস্ট ভিসার তালিকায় সর্বশেষ ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা নির্ধারিত পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার এনডোর্সমেন্টের বিকল্প উল্লেখ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ও সময়সীমা আবেদন করার আগে যাচাই করা উচিত।

৬. পেশাগত পরিচয়ের প্রমাণ

আবেদনকারীর পেশা অনুযায়ী আলাদা নথি প্রয়োজন হতে পারে।

চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে চাকরির সনদ বা নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র।

ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বা প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র।

অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অবসরসংক্রান্ত নথি।

৭. পুরোনো পাসপোর্ট

আগের পাসপোর্টে ভারতীয় ভিসা বা ভ্রমণের তথ্য থাকলে পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিতে হতে পারে। পুরোনো পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে IVAC-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রস্তুত করতে হবে।

কাগজপত্রের তালিকা আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ভারতীয় হাইকমিশন বা IVAC প্রয়োজন মনে করলে অতিরিক্ত নথিও চাইতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসার কাগজপত্রের তালিকা দেখে নিন।

ভারতীয় ভিসা অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

ভারতীয় ভিসার আবেদন করতে প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর Webfile তৈরি করে IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।

ধাপ ১: ভারতীয় ভিসার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

প্রথমে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ব্রাউজার থেকে Indian Visa Online Application ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

এখানে নতুন আবেদন শুরু করার অপশন নির্বাচন করে অনলাইন ফরম পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আগে আংশিকভাবে ফরম পূরণ করে সংরক্ষণ করে থাকলে সেটি পুনরায় খোলার অপশনও রয়েছে।

ধাপ ২: ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করুন

অনলাইন ফরমে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ, ঠিকানা, পেশা এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে।

সাধারণত যেসব তথ্য দিতে হয়:

আবেদনকারীর পূর্ণ নাম।

জন্মতারিখ ও জন্মস্থান।

জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব।

পাসপোর্ট নম্বর।

পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ।

বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা।

মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল।

পেশা ও পারিবারিক তথ্য।

আগের ভারত ভ্রমণ ও ভিসার বিবরণ, যদি থাকে।

ভারতে কোথায় থাকবেন, সেই ঠিকানা বা হোটেলের তথ্য।

ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য ভ্রমণের সময়।

নামের বানান, জন্মতারিখ ও পাসপোর্ট নম্বর পাসপোর্টের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখবেন। কোনো তথ্য অনুমান করে দেওয়া উচিত নয়।

ধাপ ৩: ভিসার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

ফরমে Visa Type বা ভিসার ধরন নির্বাচন করতে বলা হবে। বেড়ানো, কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা কিংবা পর্যটনের উদ্দেশ্যে গেলে Tourist Visa নির্বাচন করুন।

চিকিৎসার জন্য গেলে Medical Visa এবং ব্যবসায়িক কাজে গেলে Business Visa নির্বাচন করতে হবে। ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্যের সঙ্গে ভিসার ক্যাটাগরি মিল থাকা জরুরি।

ধাপ ৪: আবেদনকারীর ছবি আপলোড করুন

অনলাইন ফরমে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সাম্প্রতিক ছবি আপলোড করতে হবে। ভারতীয় ভিসার সরকারি আবেদন পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজিটাল ছবির ফরম্যাট JPEG এবং ফাইল সাইজ ১০ থেকে ৩০০ কিলোবাইটের মধ্যে হতে হবে। ছবির উচ্চতা ও প্রস্থ সমান হতে হবে। মুখ সামনের দিকে স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা বা হালকা রঙের হওয়া উচিত।

ছবি আপলোডের আগে নিশ্চিত হবেন, ছবিটি ঝাপসা নয়, মুখে ছায়া নেই এবং ছবির সঙ্গে আবেদনকারীর বর্তমান চেহারার মিল রয়েছে।

ধাপ ৫: আবেদন ফরমের সব তথ্য যাচাই করুন

ফরম পূরণ শেষ হলে Submit করার আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ, নামের বানান, ভিসার ক্যাটাগরি, ভারতে থাকার ঠিকানা এবং যোগাযোগের তথ্য সঠিক আছে কি না, তা মিলিয়ে নিন।

সরকারি আবেদন পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার পর তথ্য সংশোধনের সুযোগ সীমিত হতে পারে। তাই ভুল থাকলে জমা দেওয়ার আগেই ঠিক করে নেওয়া জরুরি।

ধাপ ৬: আবেদন Submit করে Webfile তৈরি করুন

সব তথ্য সঠিক থাকলে আবেদন ফরম Submit করুন। সফলভাবে জমা দেওয়ার পর একটি Application ID তৈরি হবে এবং আবেদন ফরম PDF আকারে পাওয়া যাবে। এই PDF ফাইলকেই IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় Webfile হিসেবে ব্যবহার করতে হয়।

Webfile PDF ডাউনলোড করে মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনে প্রিন্ট কপিও রাখুন।

IVAC-এর ১৬ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর অ্যাপয়েন্টমেন্ট FAQ অনুযায়ী, বুকিংয়ের সময় আপলোড করা Webfile ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হলে গ্রহণ করা হবে না। তাই অনলাইন ফরম পূরণের পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা ভালো।

ধাপ ৭: IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালে প্রবেশ করুন

অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হলে এবার IVAC Appointment Management System ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

প্রথমবার ব্যবহার করলে Sign Up বা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির অপশন নির্বাচন করুন। আগে অ্যাকাউন্ট থাকলে সরাসরি লগইন করতে পারবেন।

ধাপ ৮: IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন

অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত নিচের তথ্য দিতে হয়:

মোবাইল নম্বর।

ই-মেইল ঠিকানা।

Given Name ও Surname।

পাসপোর্ট নম্বর।

NID নম্বর বা প্রযোজ্য পরিচয়পত্রের নম্বর।

জন্মতারিখ।

এরপর মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলে OTP পাঠানো হলে তা দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। অ্যাকাউন্টের তথ্য অবশ্যই অনলাইন ভিসা আবেদন ফরমের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে।

ধাপ ৯: Webfile আপলোড করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন

অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর Book Your Appointment অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর প্রথমে Primary Webfile আপলোড করুন। পরিবারের একাধিক আবেদনকারীকে একই বুকিংয়ে যুক্ত করার সুযোগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী Secondary Webfile আপলোড করতে পারেন।

এরপর সিস্টেমে প্রদর্শিত IVAC কেন্দ্র নির্বাচন করুন। ক্যালেন্ডার থেকে উপলভ্য ভবিষ্যৎ তারিখ নির্বাচন করে পেমেন্টের ধাপ সম্পন্ন করুন। বুকিং সফল হলে Appointment Confirmation ও Payment Invoice ডাউনলোড করে রাখুন।

IVAC-এর নতুন ব্যবস্থায় Webfile আপলোড করার পর সিস্টেম সংশ্লিষ্ট মিশন ও আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে উপযুক্ত কেন্দ্র দেখায়। সব কেন্দ্র বা সব ভিসা ক্যাটাগরিতে একই সময়ে স্লট পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ধাপ ১০: নির্ধারিত তারিখে IVAC কেন্দ্রে কাগজপত্র জমা দিন

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে নির্ধারিত দিনে নির্বাচিত IVAC কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। সঙ্গে রাখবেন মূল পাসপোর্ট, অনলাইন আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি, Webfile বা Application ID-এর তথ্য, অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন, পেমেন্ট ইনভয়েস, ছবি, NID বা জন্মনিবন্ধনের কপি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত নথি।

আবেদন ফরমে যেখানে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে, সেখানে নির্ধারিত নিয়মে স্বাক্ষর করবেন। IVAC-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল কপি ও ফটোকপি সঙ্গে রাখা ভালো।

ধাপ ১১: আবেদন জমার রসিদ সংরক্ষণ করুন

IVAC-এ আবেদন জমা দেওয়ার পর যে রসিদ বা ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে, সেটি যত্ন করে রাখুন। পরবর্তী সময়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ বা আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য এটি প্রয়োজন হতে পারে।

ধাপ ১২: ভিসা আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই করুন

আবেদন জমা দেওয়ার পর ভিসার অবস্থা জানতে সরকারি পোর্টালের Visa Status Enquiry অপশন ব্যবহার করতে পারেন।

ভারতীয় ভিসার আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই করুন

সেখানে প্রয়োজনীয় Application ID বা নির্দেশিত তথ্য দিয়ে আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই করা যায়। আবেদন প্রক্রিয়াধীন, সম্পন্ন বা অন্য কোনো অবস্থায় রয়েছে কি না, তা সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী জানতে পারবেন।

ধাপ ১৩: পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন

ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হলে IVAC-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ভিসার নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ভিসার মেয়াদ, প্রবেশের সংখ্যা এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করুন।

মনে রাখবেন, ভিসা অনুমোদিত হলেও আবেদনকারী যে মেয়াদ বা শর্ত চেয়েছেন, ঠিক সেটিই দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ভারতীয় ভিসা করতে কত টাকা লাগে?

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত সরকারের ভিসা ফি বিনা মূল্যে। তবে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য IVAC নির্ধারিত প্রসেসিং ফি বা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।

IVAC-এর প্রকাশিত ফি-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার প্রসেসিং ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এই অর্থ IVAC-এর আবেদন পরিচালনা ও সেবা প্রদানের চার্জ; এটি ভারত সরকারের ভিসা ফি নয়।

খরচের বিবরণ

পরিমাণ

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় সরকারি ভিসা ফি

বিনা মূল্যে

IVAC প্রসেসিং ফি

১,৫০০ টাকা

মোট নির্ধারিত প্রসেসিং খরচ

১,৫০০ টাকা

এখানে ছবি তোলা, ফটোকপি, প্রিন্ট, যাতায়াত, হোটেল বুকিং বা অন্য ব্যক্তিগত খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। কোনো এজেন্টের মাধ্যমে ফরম পূরণ করালে তার সার্ভিস চার্জ আলাদা হতে পারে।

IVAC-এর প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নিশ্চিত করা বা দ্রুত ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা প্রতারণা হতে পারে। IVAC প্রসেসিং ফি ছাড়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার জন্য কাউকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সর্বশেষ ফি জানতে IVAC-এর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ফি পেজ দেখুন।

IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট কখন পাওয়া যায়?

ভারতীয় ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রয়োজন। বর্তমানে IVAC Appointment Management System ব্যবহার করে আবেদনকারীরা অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারেন।

IVAC-এর ১৬ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর FAQ-তে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সম্পর্কে যে সময়সূচি উল্লেখ রয়েছে, তা হলো:

বিষয়

সময়

নতুন স্লট খোলার সময়

বৃহস্পতিবার বা সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস

রোববার–বৃহস্পতিবার

দুপুর ১২টা–বিকেল ৫টা

শনিবার

সকাল ১০টা–দুপুর ১২টা

বুকিংয়ের সময়সীমা

পরবর্তী দুই সপ্তাহের উপলভ্য তারিখ

একই দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট

বুক করা যায় না

স্লট সাধারণত পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য খোলা হয়। তবে নির্দিষ্ট কেন্দ্র ও ভিসা ক্যাটাগরিতে স্লটের সংখ্যা সীমিত থাকতে পারে। তাই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, Book Your Appointment প্রক্রিয়া শুরু করার পর Webfile আপলোড, কেন্দ্র নির্বাচন, তারিখ নির্বাচন এবং পেমেন্টসহ পুরো বুকিং সম্পন্ন করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। তাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও Webfile প্রস্তুত রাখুন।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের ওয়েবসাইট: appointment.ivacbd.com

ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেলে কী করবেন?

অনেক আবেদনকারী অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করার পর IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালে গিয়ে কোনো তারিখ দেখতে পান না। সাধারণত সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা ভিসা ক্যাটাগরিতে স্লট না থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে প্রথমে নিশ্চিত করুন, আপনার Webfile ৩০ দিনের বেশি পুরোনো নয়। এরপর সঠিক তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করে উপলভ্য স্লট পরীক্ষা করুন। স্লট না থাকলে পরবর্তী সময়ে পোর্টালে আবার চেষ্টা করতে পারেন।

একই দিনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সুযোগ নেই। আবার কোনো ব্যক্তি যদি টাকা নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে সতর্ক থাকুন। IVAC-এর নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে কাউকে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র কোথায়?

বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বা IVAC বিভিন্ন শহরে রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে টুরিস্ট ভিসার আবেদন পুনরায় চালুর ঘোষণার সময় প্রাথমিকভাবে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার পাঁচটি শহরের কেন্দ্রের কথা জানানো হয়েছিল।

তবে সব ধরনের ভিসা বা সব কেন্দ্রের কার্যক্রম সব সময় একই রকম নাও থাকতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালে আপনার আবেদন অনুযায়ী যে কেন্দ্র নির্বাচন করার সুযোগ দেখাবে, সেটিই অনুসরণ করবেন।

কেন্দ্রের ঠিকানা ও সর্বশেষ নোটিশ জানতে IVAC বাংলাদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।

ভারতীয় ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে?

ভারতীয় ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার পর কত দিনে ভিসা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে আবেদনকারীর তথ্য, ভিসার ধরন, প্রয়োজনীয় যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ভারতীয় মিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভারতীয় ভিসার সরকারি আবেদন পোর্টালে সাধারণ ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণের পর প্রক্রিয়াকরণে ন্যূনতম তিন কর্মদিবসের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত ডেলিভারি সময় নয়। বিশেষ যাচাই, অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন, আবেদনকারীর তথ্য যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট মিশনের কাজের চাপের কারণে বেশি সময় লাগতে পারে।

তাই ভিসা হাতে পাওয়ার আগে বিমান, ট্রেন বা বাসের টিকিট কেনা কিংবা হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। বিশেষ করে চিকিৎসা বা জরুরি ভ্রমণের ক্ষেত্রে হাতে পর্যাপ্ত সময় রাখা উচিত।

ভারতীয় ভিসার মেয়াদ কত দিন?

ভারতীয় ভিসার মেয়াদ নির্ভর করে ভিসার ধরন, আবেদনকারীর যোগ্যতা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর। টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে কত দিনের জন্য ভিসা দেওয়া হবে, কতবার ভারতে প্রবেশ করা যাবে এবং প্রতিবার কত দিন অবস্থান করা যাবে—এসব বিষয় ভিসায় উল্লেখ থাকে।

একজন আবেদনকারী ছয় মাসের ভিসা চাইলেই ছয় মাসের ভিসা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার ভিসার মেয়াদ ছয় মাস থাকলেও পুরো ছয় মাস একটানা ভারতে থাকার অনুমতি থাকবে—এমনও নয়।

পাসপোর্টে ভিসা পাওয়ার পর Valid From, Valid Until, Number of Entries এবং Duration of Stay ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় ভিসায় দেওয়া শর্ত মেনে চলুন।

ভারতীয় ভিসা আবেদনে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ফরমে ভুল তথ্য, অস্পষ্ট ছবি বা অসম্পূর্ণ নথির কারণে আবেদন জমা দিতে সমস্যা হয়। এসব ঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।

প্রথমত, পাসপোর্টের সঙ্গে মিল রেখে নাম, জন্মতারিখ ও পাসপোর্ট নম্বর লিখুন। দ্বিতীয়ত, প্রকৃত ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিসার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন। তৃতীয়ত, বর্তমান ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য সঠিক দিন। চতুর্থত, ভ্রমণের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতে থাকার ঠিকানা উল্লেখ করুন। পঞ্চমত, প্রয়োজনীয় ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও পেশাগত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।

এ ছাড়া Webfile ও Application ID সংরক্ষণ করুন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও কেন্দ্র নিশ্চিত হয়ে তারপর উপস্থিত হন। কোনো ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

IVAC কেন্দ্রে যাওয়ার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

ভিসা আবেদন জমা দিতে IVAC কেন্দ্রে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা নির্দেশনা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। IVAC-এর নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ল্যাপটপ, ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, সিল করা প্যাকেট, ধারালো বস্তু ও দাহ্য পদার্থের মতো জিনিস কেন্দ্রে নেওয়ার অনুমতি নেই। এসব জিনিস রাখার ব্যবস্থাও কেন্দ্রে নাও থাকতে পারে।

তাই আবেদন ফরম, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একটি সাধারণ ফাইলে নিয়ে যাওয়াই ভালো। সম্ভব হলে সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় কোনো জিনিস নেবেন না। কেন্দ্রে যাওয়ার আগে IVAC-এর সর্বশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা দেখে নিন।

ভারতীয় ভিসা আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন?

অনলাইনে আবেদন জমা ও IVAC-এ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানার জন্য সরকারি ভিসা পোর্টালের Visa Status Enquiry ব্যবহার করা যায়।

প্রথমে ভারতীয় ভিসার সরকারি আবেদন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর Visa Status Enquiry নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় Application ID বা নির্দেশিত তথ্য দিন। সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াধীন, সম্পন্ন বা অন্য কোনো অবস্থায় রয়েছে কি না, তা জানতে পারবেন।

অন্যদিকে IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্টের পেমেন্ট বা বুকিংয়ের অবস্থা জানতে IVAC Appointment Management System অ্যাকাউন্টে লগইন করে Check Payment Status অপশন ব্যবহার করতে পারেন। সফল বুকিং হলে ইনভয়েস ডাউনলোড করে রাখুন।

ভারতীয় ভিসা আবেদন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. ভারতীয় ভিসার আবেদন কি অনলাইনে করা যায়?

হ্যাঁ। বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতীয় ভিসার সরকারি ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারেন। তবে শুধু অনলাইনে ফরম জমা দিলেই আবেদন সম্পন্ন হয় না। পরবর্তী সময়ে IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

২. ভারতীয় টুরিস্ট ভিসার আবেদন ফরম কোথায় পাওয়া যাবে?

ভারতীয় ভিসার আবেদন ফরম পাওয়া যাবে indianvisa-bangladesh.nic.in ওয়েবসাইটে। এই ওয়েবসাইট থেকেই আবেদন ফরম পূরণ ও জমা দিতে হয়।

৩. ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা করতে কী কী লাগে?

সাধারণত বৈধ পাসপোর্ট, ছবি, NID বা জন্মনিবন্ধন, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, পেশাগত পরিচয়পত্র এবং পুরোনো পাসপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।

৪. ভারতীয় ভিসা করতে কি ১ হাজার ৫০০ টাকা লাগে?

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত সরকারের ভিসা ফি বিনা মূল্যে। তবে IVAC-এর প্রসেসিং ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা। এই ফি ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া IVAC-এর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

৫. ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে নিতে হয়?

প্রথমে অনলাইনে ভিসা ফরম পূরণ করে Webfile তৈরি করতে হবে। এরপর appointment.ivacbd.com ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে Webfile আপলোড, কেন্দ্র নির্বাচন, উপলভ্য তারিখ নির্বাচন এবং নির্ধারিত পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

৬. ভারতীয় ভিসার Webfile কত দিন কার্যকর থাকে?

IVAC-এর ১৬ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর অ্যাপয়েন্টমেন্ট FAQ অনুযায়ী, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের জন্য আপলোড করা Webfile ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হলে গ্রহণ করা হবে না।

৭. ভারতীয় ভিসা পেতে কত দিন লাগে?

সরকারি আবেদন পোর্টালে সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম তিন কর্মদিবসের কথা বলা হয়েছে। তবে আবেদন যাচাই, ভিসার ধরন ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে বেশি সময় লাগতে পারে।

৮. ভারতীয় ভিসার আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখব?

ভারতীয় ভিসার সরকারি আবেদন পোর্টালে গিয়ে Visa Status Enquiry অপশন নির্বাচন করে Application ID বা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারবেন।

৯. ভারতীয় ভিসার আবেদন কি এজেন্ট ছাড়া করা যায়?

হ্যাঁ। আবেদনকারী নিজেই সরকারি ওয়েবসাইটে ফরম পূরণ এবং IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন। কোনো এজেন্ট বাধ্যতামূলক নয়। কেউ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার নামে অতিরিক্ত টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন।

১০. ভারতীয় ভিসার আবেদন জমা দিলেই কি ভিসা নিশ্চিত?

না। আবেদন জমা দেওয়া মানেই ভিসা অনুমোদন নয়। প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। আবেদনকারীর তথ্য, কাগজপত্র ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই করা হতে পারে।

১১. ভারতীয় ভিসার মেয়াদ কত দিন থাকে?

ভিসার মেয়াদ আবেদনকারীর ক্যাটাগরি ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। পাসপোর্টে দেওয়া ভিসার মেয়াদ ও অবস্থানের শর্ত দেখে ভ্রমণ করতে হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসার আবেদন করতে হলে প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে অনলাইন ফরম পূরণ করে Webfile তৈরি করতে হবে। এরপর IVAC Appointment Management System-এ অ্যাকাউন্ট খুলে Webfile আপলোড, কেন্দ্র ও তারিখ নির্বাচন এবং নির্ধারিত প্রসেসিং ফি পরিশোধ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত দিনে মূল পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে IVAC কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত সরকারের ভিসা ফি বিনা মূল্যে হলেও IVAC-এর প্রসেসিং ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা। আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, Webfile-এর ৩০ দিনের সীমা, অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কার্যক্রম যাচাই করা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা আবেদন বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার নামে কোনো ব্যক্তি বা এজেন্টকে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন, সঠিক তথ্য দিন এবং আবেদনসংক্রান্ত সব রসিদ ও কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026