শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চুটকি বাজিয়ে ব্যাটসম্যানকে আউট করানো সেই ক্রিকেটার নিষিদ্ধ, শাস্তি পেল ক্লাবও সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় পুলিশ সদস্যের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ সারা দিন বড়শি ফেলে ধরলেন একটি কাতলা, তাতেই জিতে নিলেন দুই লাখ টাকা বারিধারায় বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের উসকানিতে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রিজভী যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় পতন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ৭ মুসলিম গোল করেই কেন কেঁদেছিলেন ইব্রাহিম কেয়ারটেকার মানেন নাই, মেনেছেন; সংস্কার মানেন নাই, মানতে হবে: জামায়াত আমির

কেয়ারটেকার মানেন নাই, মেনেছেন; সংস্কার মানেন নাই, মানতে হবে: জামায়াত আমির

  • Update Time : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯.১৫ পিএম
  • ০ Time View
1

সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কেয়ারটেকার মানেন নাই?… মেনেছেন। সংস্কার মানেন নাই?…মানতে হবে।’

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। কিন্তু এখন তারা গণভোটের রায় মানছে না; বাকশালি ধারায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে সে আয়োজন ষোলো কলায় পূর্ণ হতে চলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের সব কটি সংসদের প্রথম অধিবেশনে তোলা হয়নি উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, যেসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ হতো, সেগুলোর মধ্য থেকে ২০টি সরকার বাদ দিয়েছে।

.

বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ সব জায়গায় সরকার দলীয়করণ করেছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা শুরু হয়েছে। দুদকের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে যাঁকে বসানো হয়েছে, তাঁর আমলনামা এর মধ্যেই জাতি জানতে পেরেছে; এমন মানুষ দিয়ে দুর্নীতি দমন করা অসম্ভব। পিএসসির চেয়ারম্যান ও দুজন সদস্যকে চায়ের দাওয়াত দিয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোর প্রতিবাদ না করলে বিরোধী দল হিসেবে অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এ দেশে বিপ্লব বারবার আসবে, দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাস সেটির প্রমাণ।

সরকারকে ভুল পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আধিপত্যবাদের বিরোধিতার কথা বললেও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে সরকার কী করেছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। অদৃশ্য কোনো চুক্তি দেশের মানুষ মানবে না।

.

জামায়াত আমির আরও বলেন, সামরিক অফিসাররা তাঁদের প্রতি উপহাস ও অপমানের প্রতিশোধ নিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। এর পর থেকে ওই বছরের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতার উত্থান–পতন ও অনেক পালাবদল হয়। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটান। তবে সামরিক কর্মকর্তারা সে পাল্টা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেন।

৭ নভেম্বরের ইতিহাস প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘৩ থেকে ৬ নভেম্বর জিয়াউর রহমান বন্দী ছিলেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অবদান নেই, তিনি নিরুপায় ছিলেন। তাঁকে সিপাহিরাই ৭ নভেম্বর মুক্ত করে এনেছিলেন। বিপ্লব সিপাহিরা করেছিল, সংহতি জানিয়েছিল সাধারণ জনগণ। এ জন্যই দিবসটির নাম হয়েছে বিপ্লব ও সংহতি দিবস।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি হলেন এবং বিএনপি গঠনের কাজে এগিয়ে গেলেন। ১৯৭১ সালে বিএনপি ছিল না, ১৯৭৫ সালেও ছিল না। তবে দুই সময়েই জিয়াউর রহমান ছিলেন। তাঁকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশপাশে থাকা তাঁর দলের কারও কিছু হলো না। সবকিছুই রহস্য থেকে গেল।

.

ইতিহাসে যাঁর যা অবদান রয়েছে, তাঁকে সেই স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও অবদানকে ছোট করে দেখার পক্ষে নই। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে মারামারিতে আমরা নাই। যিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ সেটা শুনেছে। আবার স্বাধীনতার পতাকা একজন তরুণ নেতা সেদিন উড়িয়েছিলেন। এটা এখন আর আলোচনায় আসে না। জনাব আ স ম আবদুর রব। তাঁর নামটি কিন্তু কেউ বলে না। বললে নিজের ক্রেডিট চলে যায়।’

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী। তাঁর নামটি কি কেউ এখন মুখে নেয়? এটা নিলে নিজের এবং নিজের দলের কোনো কৃতিত্ব থাকে না। এসব হীনম্মন্যতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যাঁর যেখানে অবদান, তাঁর স্বীকৃতি দিতে হবে।’

ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মূসা ও গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026