
মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তুষারকান্তি বিশ্বাসের বসতবাড়ির দুটি ঘর ও ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত তুষারকান্তি বিশ্বাস ওই এলাকার মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হঠাৎ তুষারকান্তি বিশ্বাসের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরেকটি ঘরেও। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় দুটি ঘর পুড়ে যায়। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুন দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় ঘরের ভেতরে থাকা অধিকাংশ মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে যান মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য সহায়তা ও শুকনা খাবার প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বহুগ্রাম ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী জাকির হোসেন, বহুগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানসহ ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে তুষারকান্তি বিশ্বাসের পরিবার এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারের আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী চোখের সামনে আগুনে পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারটির যে ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে কঠিন। তাই সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করায় স্থানীয়রা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।