
নিজস্ব প্রতিনিধি | আজকের জাগরণ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিখোঁজ ইজিবাইক চালক শহিদুল মাতব্বর (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই ঘাতককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের ব্যবহৃত ইজিবাইক ও আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন সকালে মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুস সালাম মাতব্বরের ছেলে শহিদুল মাতব্বর প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে জীবিকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ৭ জুন তার স্ত্রী সাথী আক্তার মুকসুদপুর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ঘটনার পর গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান (মুকসুদপুর সার্কেল), মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুস সালাম মিয়ার নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ৮ জুন টেকেরহাট এলাকা থেকে শহিদুলের ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।ইজিবাইক উদ্ধারের পরও চালকের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানে প্রথমে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নূর হোসেন ওরফে মাইকেল (৩২) এবং তার সহযোগী পলাশ (৩৬)-কে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, তারা ভিকটিম শহিদুলের পরিচিত ছিলেন এবং একসঙ্গে মাদক সেবন করতেন। ঋণের বোঝা ও নেশার টাকার জোগান দিতে তারা শহিদুলকে হত্যা করে তার ইজিবাইক বিক্রির পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ জুন নেশা করার কথা বলে তারা শহিদুলকে মাদারীপুরের রাজৈর এলাকায় নিয়ে যায়। রাতে কবিরাজপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন একটি কাঠের দোকানে অবস্থানকালে তাকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি পান করানো হয়। পরে গভীর রাতে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর শহিদুলের মরদেহ তার নিজের ইজিবাইকে করে কবিরাজপুর এলাকার একটি জঙ্গলঘেরা খালের পাড়ে ফেলে রাখা হয়। এরপর ইজিবাইকটি বিক্রির উদ্দেশ্যে টেকেরহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের অভিযানের মুখে পড়ে এবং ইজিবাইক উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাকে ডাকাতির নাটক হিসেবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করে আসামিরা। একই সঙ্গে ভিকটিমের পরিচয় গোপন করতে তারা পেট্রোল দিয়ে মরদেহে আগুন লাগিয়ে বিকৃত করার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থান থেকে শহিদুল মাতব্বরের আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।