
অভাব-অনটনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছিল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কেন্দুয়া গ্রামের মরহুম কাজী মোহাম্মদের পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য এতিম যুবক কাজী মঈনুদ্দিনের হাতে জীবিকার নতুন সম্ভাবনা তুলে দিয়েছে সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক সংগঠন ব্যাকডোর। সংগঠনটির যাকাত ফান্ডের অর্থায়নে রবিবার (২৬ জুলাই) তাকে একটি অটোভ্যান প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার মায়ের স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ছাগল পালনের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ব্যাকডোরের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার কাজী এম. এ. আনোয়ার জানান, সংগঠনটির উদ্দেশ্য কেবল অনুদান বিতরণ নয়; বরং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে অসহায়, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। সেই লক্ষ্য থেকেই যাকাত ফান্ডের মাধ্যমে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
তার নির্দেশনায় এবং কেন্দুয়া গ্রাম জাকাত ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী সফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে খান্দারপাড়া বাজার থেকে অটোভ্যানটি কেন্দুয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ফাউন্ডেশনের কার্যকরী সদস্য সেলিম শিকদার, আরজ আলী খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী পান্নু, নূর আলম শেখ ও লিটু শেখের উপস্থিতিতে কেন্দুয়া গ্রামের মরহুম কাজী মোহাম্মদের পুত্র কাজী মঈনুদ্দিনের হাতে অটোভ্যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। একই সময়ে তার মায়ের স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ছাগল পালনের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
এ সময় ব্যারিস্টার কাজী এম. এ. আনোয়ার বলেন, “যাকাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সাময়িক সহায়তা দেওয়া নয়; বরং এমনভাবে সহযোগিতা করা, যাতে একজন মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। অটোভ্যানের মাধ্যমে মঈনুদ্দিন নিয়মিত আয় করতে পারবে। পাশাপাশি তার মায়ের জন্য ছাগল পালনের উদ্যোগ পরিবারটির অতিরিক্ত আয়ের উৎস সৃষ্টি করবে। আমরা চাই যাকাতের অর্থ মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন বয়ে আনুক।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মুকসুদপুরে ব্যাকডোরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার কাজী এম. এ. আনোয়ার যাকাত ফান্ড গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এ তহবিলের মাধ্যমে এলাকার দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সেই ঘোষণার বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাকডোরের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এককালীন সহায়তার পরিবর্তে কর্মসংস্থানভিত্তিক পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে অধিক কার্যকর। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে আরও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
ব্যাকডোরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাকাত ফান্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও আরও অসহায়, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের পুনর্বাসন এবং আত্মকর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।