
মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: আজকের জাগরণ
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড়া এলাকার সাবেক সেনাসদস্য রফিক লস্করের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর মৃত্যু আজ ছয় দিন অতিক্রম করলেও এখনো পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকাবাসীর হৃদয়ে ভারী শোক ও শূন্যতার অনুভূতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর প্রায় এক মাস পূর্বে রফিক লস্কর চাচা খান্দারপাড়া এলাকায় আসেন। তখন তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। মুকসুদপুরে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে খান্দারপাড়া বাজার থেকে কামরুল লস্কর ভাইয়ের সহযোগিতায় তিনি একটি অটোতে ওঠেন। সেই অটোতে উপস্থিত ছিলেন নূর আলম শেখ।
সেই সময় কামরুল লস্কর নূর আলম শেখকে অনুরোধ করেন, যেন তিনি রফিক লস্করকে কলেজ মোড় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন। প্রথমদিকে তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে নূর আলম ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি তিনি কে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে তিনি চিনতে পারেন—ইনি সেই রফিক লস্কর চাচা, যিনি এলাকায় একজন অত্যন্ত সৎ, ভদ্র, শান্ত ও মানবিক মানুষ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
অসুস্থ অবস্থায় নূর আলম শেখ তাঁর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তিনি স্ট্রোক করেছেন, যার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তখনই বোঝা যায় তিনি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর শরীর ক্রমশ ভেঙে পড়ছিল।
পরবর্তীতে এই গুণী ও সম্মানিত ব্যক্তি রফিক লস্কর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ঢল নামে। সবাই একজন ভালো মানুষকে হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েন।
রফিক লস্কর ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সদস্য। কর্মজীবনে তিনি সততা, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর জীবনে তিনি নিজ গ্রামে বসবাস শুরু করেন এবং পরিবারকে সুখে-শান্তিতে রাখার জন্য পরিশ্রম করেন। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি একজন দায়িত্বশীল পিতা, স্বামী ও সমাজের একজন সম্মানিত মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তিনি নিজের পরিশ্রম ও উপার্জনের মাধ্যমে মুকসুদপুরে একটি স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসুস্থতা তাঁকে দুর্বল করে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ছয় দিন পার হয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি এখনো এলাকাবাসীর মনে গভীরভাবে বিদ্যমান। অনেকেই এখনো তাঁর কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যারা তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন, তাদের কাছে তাঁর চলে যাওয়া একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রফিক লস্করের মৃত্যুতে খান্দারপাড়া এলাকায় এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এলাকাবাসীর মতে, তিনি ছিলেন একজন নিরহংকারী, শান্ত ও ভালো মানুষ, যিনি সবার সঙ্গে সদাচরণ করতেন।
তার মৃত্যুতে এলাকাবাসী এক সৎ, দায়িত্বশীল ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বকে হারালো, যার স্মৃতি দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।