
সামসু উদ্দিন বাবু :কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিরীহ ওই পরিবারের আরেকটি বাড়িতে গিয়ে বসতঘরে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটে ২৪ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সালামের পরিবারের বৃদ্ধ লেচাঁন উদ্দিন (৭৪) সহ ৭জন গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আহতদের কুলাউড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতরা হলেন লেচাঁন উদ্দিন (৭৪), সদ্য সিজারিয়ান অপারেশনের রোগি তানজিলা বেগম (২৬), আব্দুল হাসিম চৌধুরী (৩৫), সমেজা বেগম (৪০), আছিমা বেগম, কয়েছ মিয়া, আছমল আলী। তবে আরমান আলী গংদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ও অতর্কিত হামলায় ভীতস্থ আব্দুস সালামের পরিবারের মহিলা ও শিশুসহ অন্য লোকজন। তারা আতংকে কেউ কেউ ঘরবাড়ী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
জানাযায়, মীরশংকর গ্রামের বাসিন্দা সিলেটে বেসরকারি ‘ব্যাংক এশিয়া’ এর কর্মকর্তা আব্দুস সালামের পৈত্রিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে পাশ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা আরমান আলীর বিরোধ চলছে। মাঝখানে একটি সরু রাস্তা বিদ্যমান রাখা না রাখা নিয়ে উভয়ের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধি একাধিক সালিশ বৈঠক করলেও সুরাহা হয়নি।
আব্দুস সালাম জানান, সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ জায়গায় আরমান আলী তাঁর অংশের সীমানাকে রাস্তার পাশে বর্ধিত করে বাউন্ডারি নির্মান শুরু করেন। ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম নিরুপায় হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মৌলভীবাজার আদালতে মামলা নং ৪১/২৬ (কুলা), তাং- ২৩/০৪/২৬ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত এই জায়গায় আর কোন নিমার্ণ কাজ না করাসহ ১৪৪ ধারা (নিষেধাজ্ঞা) জারি করেন। কিন্তু শুক্রবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় আরক আলীর ছেলে আরমান আলীর নেতৃত্বে তারই ভাই ছালেক আহমদ, মখলিছ মিয়া, ও মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে ছমরু মিয়াসহ অর্ধশতাধিক লোকজন দা, চাকু, লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুস সালামের বর্তমান বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বসতঘরের দরজা জানালাসহ ব্যাপক ভাংচুর করে এবং পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপরই তারা ফিরে গিয়ে বিরোধ পূর্ণ (আব্দুস সালামের পৈত্রিক বাড়ি) জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সীমানা প্রাচীর গুড়িয়ে দিয়েছে।
এব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি মো: মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, হামলার খবরটি জানার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সত্যতা পেয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মহামান্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।