
রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপির ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৩৩ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ উঠে, যা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও আদেশে সরাসরি কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের একটি পোস্টের লিঙ্ক তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেন। পোস্টে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওসির ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে আসা ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার বেশির ভাগ অর্থ অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উৎস থেকে ওসির বিকাশ ও নগদ নম্বরে অর্থ পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে:
রহিমের দোকান (বিকাশ/নগদ): ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা
কনস্টেবল আমজাদ: ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা
কনস্টেবল সাদ্দাম: ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা
নাসিম (বাড়িওয়ালা): ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা
মদিনা এজেন্ট হাউজ: ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা
খালেক: ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা
লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ: ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা
মিজানুর: ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা
এছাড়া, ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, এই অভিযোগ এবং লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।