শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি নেতার অস্ট্রিয়া-ইতালির গুরুত্বপূর্ণ টানেল প্রকল্পে সাইবার হামলা ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আশঙ্কা, ৭০ হাজার পুলিশ-সামরিক সদস্য মোতায়েন সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে, একই পরিবারের চারজন শ্রীলঙ্কার কয়েকটি প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা গাজায় ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত আশ্রয়শিবির, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা সার্ভার জটিলতায় এমপিও আবেদন মিস, শিক্ষকদের জন্য নতুন সুযোগ নেই ফুলবাড়ীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত নওগাঁয় যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ নেই, বলাকা ক্লিনিকের ওয়ার্ড বয় আটক সদস্যপদ স্থগিতের পর ফেসবুক লাইভে যা বললেন তানজিন তিশা

নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি নেতার

  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭.৪৯ পিএম
  • ৯ Time View
22

বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের ‘পুনরুদ্ধার’ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। দেশভাগের সময় এসব অঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তাঁর এই বক্তব্য ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত দাবি; অঞ্চলগুলো বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন বিজেপির এই নেতা। তিনি বলেন, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নেহরুর আমলে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি করা অঞ্চলগুলোও ভারতের ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিশিকান্ত দুবে দাবি করেন, ১৯৪৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় মুসলিম লীগের সমর্থন পেতে নেহরু নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রামকে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হতে দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, এসব অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের আপত্তি উপেক্ষা করা হয়েছিল।

দুবের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার সাবেক রাজপরিবারের উত্তরসূরি ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যোত মাণিক্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দেশভাগের সময় সাবেক ত্রিপুরা রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা তাঁর দাদিকে না জানিয়েই পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনাকে তিনি ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে প্রদ্যোত বলেন, বন্দরটি পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হওয়ায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সরাসরি সমুদ্রপথ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকলে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে এতটা উদ্বিগ্ন থাকতে হতো না।

নিশিকান্ত দুবের দাবি, তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ নিয়ে নেহরুর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। এসব অঞ্চলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অন্যদের নেই বলেও রাজা প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিজেপি নেতার বক্তব্যে উত্থাপিত ঐতিহাসিক দাবিগুলোর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৪৭ সালে সিলেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের ফলের ভিত্তিতে সিলেটের অধিকাংশ এলাকা পূর্ব বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয়। অন্যদিকে নোয়াখালী ও চট্টগ্রামও দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এসব অঞ্চল বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

নিশিকান্ত দুবের মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এই সংবাদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রতিবেশী দেশের একজন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ক ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।

সূত্র: এএনআই, আনাদোলু

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026