
কাজী ওহিদ- বিশেষ প্রতিনিধি: আজকের জাগরণ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (মঙ্গলবার) থেকে।
জানা গেছে, ঢাকা–বেনাপোল রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস (৮২৭/৮২৮) ট্রেনটি মুকসুদপুর রেলওয়ে স্টেশনে ২ মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি করবে। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এর পক্ষে সহকারী চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পি) মো. আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের দাপ্তরিক আদেশে জানানো হয়েছে।
মুকসুদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই এই যাত্রাবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-খুলনা রুটে আন্তঃনগর জাহানাবাদ এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-বেনাপোল রুটে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর থেকেই মুকসুদপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ এ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন। তার এই প্রচেষ্টার ফলেই অবশেষে মুকসুদপুরে ট্রেনের যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে।
এই যাত্রাবিরতির ফলে মুকসুদপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য ঢাকা ও বেনাপোলে যাতায়াত আরও সহজ ও সময়োপযোগী হবে। বিশেষ করে চাকরি ও ব্যবসায়িক কাজে ঢাকামুখী মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের সুবিধা বয়ে আনবে।
অন্যদিকে, খুলনা থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুকসুদপুর স্টেশন অতিক্রম করলেও এখানে যাত্রাবিরতি করে না। স্থানীয়দের দাবি, এই ট্রেনটিও যদি সকালে কয়েক মিনিটের জন্য মুকসুদপুর স্টেশনে থামানো হয়, তবে কর্মজীবী মানুষের জন্য তা আরও বেশি উপকার বয়ে আনবে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন।