বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মুকসুদপুর সরকারি কলেজের উন্নয়নে চার প্রতিশ্রুতি দিলেন এমপি সেলিমুজ্জামান প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা? ২১ বছরে কতটা বেড়েছে ভাতা ও সরকারি বাজেট? ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, বাস্তবে কতটা সম্ভব? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭–২০তম গ্রেডে ২৯ পদে নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে বাংলাদেশকে এআই উদ্ভাবনের দেশ করতে চায় সরকার, তরুণদের নিয়ে যে পরিকল্পনা প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড চেক করার নিয়ম (আপডেট) যুক্তি-তর্কে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ, মাভাবিপ্রবিতে ডিবেটার্স হান্ট শুরু ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বদলাবে মোংলা বন্দর, থাকছে যেসব অবকাঠামো ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা ও PDF ডাউনলোড এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ২৩ ডিসেম্বর

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, বাস্তবে কতটা সম্ভব?

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩.০২ পিএম
  • ১২ Time View
22

আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায়, একাধিক মামলা, পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতা ও ভারতের অবস্থানের কারণে তাঁর দেশে ফেরা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরবেন এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট দিন বা কীভাবে ফিরবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এরপর আগস্টে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা কারাবাসের ঝুঁকি রয়েছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত।

তবে তাঁর ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি আইনি পরিস্থিতি। ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগেও একাধিক মামলা রয়েছে। দেশে ফিরলে তাঁকে এসব মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ভারত এখনো তাঁকে ফেরত পাঠায়নি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা পরীক্ষা করে দেখছে।

এদিকে দেশে ফেরার আরেকটি সম্ভাব্য পথ নিয়েও আইনি আলোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ট্রাভেল পাস বা দুই দেশের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে বলে কয়েকজন আইনজ্ঞ মত দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ৩০ জুলাই সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর দেশে ফেরার পদ্ধতি কী হবে, সেটি তাঁর নিজের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২৫ অক্টোবর জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের নেতারাও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঝুঁকি থাকলেও তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান। তবে তাঁর ফেরার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে কি না, কিংবা দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি কীভাবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও তা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, ভারতের সিদ্ধান্ত, ভ্রমণ নথি এবং দেশে ফেরার পর আইনি পরিস্থিতি—এসব বিষয়ের ওপরই তাঁর ফেরার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে। ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসবে, ততই এ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026