
সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :
কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারবিরোধী বিশেষ যৌথ অভিযান চলাকালে পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র ডাকাত দলের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছেন। আহত সেনাসদস্য তিতাস শেখ বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এদিকে, অভিযানে মানব পাচারের শিকার ৫৪ জনকে উদ্ধার, দুই সন্দেহভাজন মানব পাচারকারীকে আটক এবং দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ গজ পশ্চিমে গভীর পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধে রোঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়ন ও টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র ডাকাত দল সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
আহত সেনাসদস্যের নাম তিতাস শেখ (২৭)। তাঁর সৈনিক নম্বর ৪৫১৯৫১৭। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ০১ বীর ইউনিটে কর্মরত এবং তাঁর চাকরির মেয়াদ নয় বছর।
আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে টেকনাফের নয়াপাড়ায় অবস্থিত আইওএম হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সযোগে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযানকালে মোট ৫৪ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫১ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং তিনজন রোহিঙ্গা রয়েছেন। এ ছাড়া মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও একজন রোহিঙ্গা রয়েছেন।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
মানব পাচার প্রতিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযানটি পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আহত সেনাসদস্যের শারীরিক অবস্থা এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।