
বশিরুল আলম-স্টাফ রিপোর্টার: আজকের জাগরণ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড় এলাকায় অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে জনরোষে উত্তাল হয়ে ওঠে ভালাইপুর মোড়। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক অবরোধ করে টানা আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখে, ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলুকদিয়া ইউনিয়নের ঝোড়াঘাটা গ্রামের নাঈম, আব্দুল্লাহ ও মামুনসহ কয়েকজন যুবক একটি ইজিবাইক রিজার্ভ করে শহরে একটি হালখাতা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে দৌলাতদিয়াড় এলাকায় পৌঁছালে বাস মালিক সমিতির কথিত ‘লাঠিয়াল’ বাহিনী তাদের গতিরোধ করে। যাত্রীরা ব্যক্তিগত ভ্রমণের কথা জানালেও তা উপেক্ষা করে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জিআই পাইপ, রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে যাত্রীদের আহত করা হয়। খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে ভালাইপুর মোড়ে জড়ো হন এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা রিংকি পরিবহনের এক বাসচালককে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাস থেকে নামিয়ে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাসসহ শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে।নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই দিনের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দৌলাতদিয়াড় মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে বাস মালিক সমিতির নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব খাটিয়ে আসছে। রোগী বহনকারী কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভাড়া করা অটোরিকশা থেকেও যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে মারধরের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে এই ‘লাঠিয়াল সংস্কৃতি’ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।এ বিষয়ে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বাস মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত বৈঠক করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপাতত দৌলাতদিয়াড় এলাকায় কোনো যানবাহনে বাধা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলার চিত্র নয়—বরং স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণহীন শক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন পরিস্থিতি আরও বড় অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।