শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া দুই ধাপে-জেনে নিন ফি

  • Update Time : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯.১৫ এএম
  • ২৪ Time View
47

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে আবেদন করতে হবে দুই ধাপে। প্রথমে লার্নার লাইসেন্স, এরপর লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত লাইসেন্সের আবেদন। জেনে নিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন পদ্ধতি ও সরকারি ফি।

বাংলাদেশে বৈধভাবে মোটরযান চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। তবে অনেকেই জানেন না, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কোথায় আবেদন করতে হয়, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন এবং লার্নার থেকে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া পর্যন্ত মোট কত টাকা ফি দিতে হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বিআরটিএর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক তথ্যে জানানো হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া মূলত দুই ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয় ধাপে চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন যেভাবে করবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো লার্নার লাইসেন্স সংগ্রহ করা। এ জন্য প্রথমে বিআরটিএর অনলাইন সার্ভিস পোর্টাল বা BSP-তে (বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল) একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ এবং নির্ধারিত কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হবে।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ইউটিলিটি বিল এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ। আবেদনকারীর তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দিয়ে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

বিআরটিএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক ক্যাটাগরির লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফি ৫১৮ টাকা। আর দুই ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করতে হলে ফি দিতে হবে ৭৪৮ টাকা। অনলাইনে আবেদন করার সময় নির্ধারিত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এই ফি পরিশোধ করতে হবে। পেমেন্ট গেটওয়ের অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর দিতে হবে তিন ধরনের পরীক্ষা

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পরই সরাসরি চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায় না। এ পর্যায়ে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বিআরটিএ নির্ধারিত লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

এই তিনটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যায়। আবেদন করতে হবে আবারও বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টাল BSP-এর মাধ্যমে। অর্থাৎ লার্নার লাইসেন্স সংগ্রহ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত লাইসেন্সের আবেদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

অপেশাদার ও পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি কত?

বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী ফি আলাদা। অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি ৪ হাজার ৬২৮ টাকা। অন্যদিকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ফি ২ হাজার ৮৩২ টাকা।

তবে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করতে হলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পাশাপাশি ডোপ টেস্টের সনদ জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন অনুমোদিত হলে পাওয়া যাবে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স

লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদিত হলে আবেদনকারী ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন। অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ের নির্ধারিত চার্জ অতিরিক্ত দিতে হতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে সব কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং আবেদন ফরমে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আবেদন করার সময় বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা ও ফি যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ড্রাইভিং লাইসেন্সসংক্রান্ত আবেদন, ফি পরিশোধ এবং অন্যান্য সেবা গ্রহণের জন্য বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টাল ব্যবহার করা যাবে। পোর্টালটির ঠিকানা: https://bsp.brta.gov.bd/

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026