বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদ অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় যেসব নিষেধাজ্ঞা দিল ডিএমপি আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র গড়তে কুয়াকাটা সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঢাকায় ই-রিকশা চালাতে লাগবে বুয়েটের অনুমোদন, যেসব শর্ত মানতে হবে বাংলাদেশের শিক্ষায় চীনের নতুন সহযোগিতা, কোন পর্যায়ে মিলবে সুবিধা? মুকসুদপুর সরকারি কলেজের উন্নয়নে চার প্রতিশ্রুতি দিলেন এমপি সেলিমুজ্জামান প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা? ২১ বছরে কতটা বেড়েছে ভাতা ও সরকারি বাজেট? ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, বাস্তবে কতটা সম্ভব? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭–২০তম গ্রেডে ২৯ পদে নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে বাংলাদেশকে এআই উদ্ভাবনের দেশ করতে চায় সরকার, তরুণদের নিয়ে যে পরিকল্পনা প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড চেক করার নিয়ম (আপডেট)

প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা? ২১ বছরে কতটা বেড়েছে ভাতা ও সরকারি বাজেট?

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩.০৭ পিএম
  • ১৪ Time View
20

বাংলাদেশে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি চালু করা হয়। কর্মসূচি শুরুর সময় উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ১৬০ জন। জনপ্রতি মাসিক ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০ টাকা। ওই অর্থবছরে কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। দুই দশকের ব্যবধানে এই কর্মসূচির আওতা ও সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ কালানুক্রমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ৫০ হাজারে, জনপ্রতি মাসিক ভাতা ৯০০ টাকা এবং বার্ষিক বাজেট ৩ হাজার ৭৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

প্রতিবন্ধী ভাতা শুধু একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি নয়; এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেসব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তা করা এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে ভাতার হার বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয়, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ কতটা কার্যকর—তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা, কোন অর্থবছরে কত টাকা বাড়ানো হয়েছে, কতজন মানুষ এই সুবিধা পাচ্ছেন, প্রতিবন্ধী ভাতার বাজেট কত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কী পরিবর্তন এসেছে—এসব বিষয়ে অনলাইনে অনেকেই তথ্য খোঁজেন। এ কারণে শুধু বর্তমান ভাতার পরিমাণ জানলেই যথেষ্ট নয়; কর্মসূচির শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর পরিবর্তনের ইতিহাসও জানা প্রয়োজন।

এই নিবন্ধে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটসংক্রান্ত ঘোষণার ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী ভাতার ধারাবাহিক পরিবর্তন, উপকারভোগীর সংখ্যা, মাসিক ভাতার হার ও সরকারি বরাদ্দ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি কবে চালু হয়?

বাংলাদেশে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি ২০০৫-০৬ অর্থবছরে চালু হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। কর্মসূচিটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এবং তাঁদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করা।

শুরুর দিকে সীমিতসংখ্যক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে এই সুবিধা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে কয়েক দফায় জনপ্রতি মাসিক ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয় এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র গ্রহণ করতে হয়। পাশাপাশি আবেদনকারীর আর্থসামাজিক অবস্থা, অসচ্ছলতা এবং নির্ধারিত যোগ্যতা বিবেচনা করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।

২০০৫-০৬ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ভাতার পূর্ণাঙ্গ হিসাব

প্রতিবন্ধী ভাতার ধারাবাহিক পরিবর্তন বুঝতে হলে তিনটি বিষয় একসঙ্গে দেখতে হবে—উপকারভোগীর সংখ্যা, জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার এবং বার্ষিক সরকারি বাজেট।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কালানুক্রমিক তালিকা অনুযায়ী, ২০০৫-০৬ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ভাতার পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো।

অর্থবছর

উপকারভোগী (হাজারে)

মাসিক ভাতা (টাকা)

বার্ষিক বাজেট (কোটি টাকা)

২০০৫-০৬

১০৪.১৬

২০০

২৪.৯৯

২০০৬-০৭

১৬৬.৬৬

২০০

৩৯.৯৯

২০০৭-০৮

২০০.০০

২২০

৫২.৮০

২০০৮-০৯

২০০.০০

২৫০

৬০.০০

২০০৯-১০

২৬০.০০

৩০০

৯৩.৬০

২০১০-১১

২৮৬.০০

৩০০

১০২.৯৬

২০১১-১২

২৮৬.০০

৩০০

১০২.৯৬

২০১২-১৩

২৮৬.০০

৩০০

১০২.৯৬

২০১৩-১৪

৩১৪.৬০

৩০০

১৩২.১৩

২০১৪-১৫

৪০০.০০

৫০০

২৪০.০০

২০১৫-১৬

৬৫০.০০

৫০০

৩৬০.০০

২০১৬-১৭

৭৫০.০০

৬০০

৫৪০.০০

২০১৭-১৮

৮২৫.০০

৭০০

৬৯৩.০০

২০১৮-১৯

১,০০০.০০

৭০০

৮৪০.০০

২০১৯-২০

১,৫৪৫.০০

৭৫০

১,৩৯০.৫০

২০২০-২১

১,৮০০.০০

৭৫০

১,৬২০.০০

২০২১-২২

২,০০৮.০০

৭৫০

১,৮২০.০০

২০২২-২৩

২,৩৬৫.০০

৮৫০

২,৪২৯.১৮

২০২৩-২৪

২,৯০০.০০

৮৫০

২,৯৭৮.৭১

২০২৪-২৫

৩,২৩৪.০০

৮৫০

৩,৩২১.৭৭

২০২৫-২৬

৩,৪৫০.০০

৯০০

৩,৭৫২.০৮

উৎস: সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবন্ধী ভাতার কালানুক্রমিক পরিসংখ্যান।

এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, কর্মসূচি শুরুর সময় উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১০৪.১৬ হাজার বা প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার জন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৪ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মাসিক ভাতা ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০০ টাকা হয়েছে।

কোন কোন অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বেড়েছে?

প্রতিবন্ধী ভাতার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভাতার হার প্রতিবছর বাড়ানো হয়নি। কয়েকটি অর্থবছরে একই পরিমাণ ভাতা বহাল রাখা হয়েছে। আবার কিছু অর্থবছরে একবারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভাতা বাড়ানো হয়েছে।

২০০৫-০৬ ও ২০০৬-০৭ অর্থবছরে জনপ্রতি মাসিক ভাতা ছিল ২০০ টাকা। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ২২০ টাকা করা হয়। পরের অর্থবছর ২০০৮-০৯ সালে মাসিক ভাতার হার দাঁড়ায় ২৫০ টাকা।

এরপর ২০০৯-১০ অর্থবছরে ভাতা ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০১০-১১ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত এই হার অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ টানা কয়েক বছর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মাসে ৩০০ টাকা করে ভাতা পেয়েছেন।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে ভাতার পরিমাণে বড় পরিবর্তন আসে। ওই বছর মাসিক ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৬০০ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭০০ টাকা করা হয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরে মাসিক ভাতার হার বেড়ে ৭৫০ টাকা হয়। ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরেও একই হার বজায় ছিল। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভাতা বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হয়। এই হার ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বহাল ছিল।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাসিক ভাতার পরিমাণ ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ কর্মসূচি শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে মাসিক ভাতা ৭০০ টাকা বেশি।

প্রতিবন্ধী ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা কীভাবে বেড়েছে?

প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি হলো উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি। শুরুতে মাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ১৬০ জনকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছিল। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬০ জন হয়।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ২ লাখে পৌঁছায়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা বেড়ে ২ লাখ ৬০ হাজার হয়। এরপর কয়েকটি অর্থবছরে ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়ানো হয়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ৪ লাখে উন্নীত হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়।

পরবর্তী সময়ে সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ানো হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৮ লাখ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০ লাখ ৮ হাজার মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসেন।

২০২২-২৩ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়ে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ২৯ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩২ লাখ ৩৪ হাজারে পৌঁছায়। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ৫০ হাজারে।

প্রতিবন্ধী ভাতার সরকারি বাজেট কত বেড়েছে?

উপকারভোগীর সংখ্যা ও মাসিক ভাতার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির সরকারি বাজেটও বেড়েছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ছিল ২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা হয়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বরাদ্দ দাঁড়ায় ৯৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট ছিল ২৪০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা বেড়ে ৮৪০ কোটি টাকা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দ প্রথমবারের মতো ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ টাকায় পৌঁছায়।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেট ছিল ২ হাজার ৪২৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ২ হাজার ৯৭৮ কোটি ৭১ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩২১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির জন্য মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ৭৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বাজেট বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত দুটি বিষয় কাজ করে। প্রথমত, নতুন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত করা হলে সরকারের মোট ব্যয় বাড়ে। দ্বিতীয়ত, জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার বাড়ানো হলে একইসংখ্যক মানুষকে সহায়তা দিতেও বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, সরকারি বাজেটের পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ও মাসিক ভাতার সরল গুণফল সব সময় হুবহু এক হবে না। অর্থবছরভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণের সময় প্রকৃত উপকারভোগীর হিসাব, অর্থবছরের সময়কাল এবং বাজেট পরিকল্পনার অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। তাই বাজেটের ক্ষেত্রে সরকারি প্রকাশিত অঙ্ককেই প্রামাণ্য হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা?

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতার জনপ্রতি মাসিক হার ৯০০ টাকা। এই অর্থবছরে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার এবং কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ৩ হাজার ৭৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

মাসিক ৯০০ টাকা হিসাবে একজন উপকারভোগী ১২ মাসে মোট ১০ হাজার ৮০০ টাকা পান। তবে বাস্তবে অর্থপ্রাপ্তি নির্ভর করে উপকারভোগীর অনুমোদিত তালিকাভুক্তি, অর্থ ছাড় এবং বিতরণসংক্রান্ত সরকারি ব্যবস্থার ওপর।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে?

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ঘোষণা রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি একটু বিস্তারিতভাবে বোঝা প্রয়োজন।

প্রথমত, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নির্ধারণসংক্রান্ত বৈঠকের সিদ্ধান্তের বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় মোট ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকবেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসে ৯০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

দ্বিতীয়ত, ১১ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখ এবং মাসিক ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বাজেট প্রতিবেদনেও এই প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ বাজেট বক্তৃতায় ৩৮ লাখ মানুষকে মাসে ১ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও এর আগে প্রকাশিত কর্মসূচি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ৩৬ লাখ মানুষের জন্য দুই ধরনের ভাতার হার উল্লেখ করা হয়েছিল।

এই দুটি তথ্যকে এক করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সবাই ১ হাজার টাকা পাচ্ছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। চূড়ান্ত বাস্তবায়নসংক্রান্ত হালনাগাদ সরকারি নির্দেশনা বা উপকারভোগীর তালিকা দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা কী?

প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য শুধু প্রতিবন্ধী হিসেবে পরিচিত হওয়াই যথেষ্ট নয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।

প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

আবেদনকারীকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে।

সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিবন্ধিতার পরিচয়পত্র গ্রহণ করতে হবে।

আবেদনকারীকে অসচ্ছল হতে হবে।

মাথাপিছু বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার টাকার বেশি নয়—এমন অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভাতার জন্য বিবেচিত হন। সরকারি কর্মচারী, সরকারি পেনশনভোগী এবং নির্দিষ্ট ধরনের নিয়মিত সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার শর্ত রয়েছে।

যোগ্যতার শর্ত ও আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ নিয়ম জানতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা বিষয়ক সরকারি পাতা দেখা যেতে পারে।

প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেকের জন্য দৈনন্দিন জীবনযাপন, চিকিৎসা, চলাচল, শিক্ষা ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয় প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের প্রতিবন্ধী সদস্যদের ক্ষেত্রে এই ব্যয় পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

এ অবস্থায় নিয়মিত সরকারি ভাতা তাঁদের কিছু প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে। যদিও মাসিক ৯০০ টাকা দিয়ে সব ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয়, তবুও এটি অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য একটি আর্থিক সহায়তা।

এই কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা। সরকারি নিবন্ধন, পরিচয়পত্র, উপকারভোগী নির্বাচন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচিকে আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি কবে চালু হয়?

বাংলাদেশে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি ২০০৫-০৬ অর্থবছরে চালু হয়।

প্রতিবন্ধী ভাতা শুরুতে কত টাকা ছিল?

২০০৫-০৬ অর্থবছরে জনপ্রতি মাসিক ভাতার পরিমাণ ছিল ২০০ টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা?

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ৯০০ টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কতজন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন?

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার।

প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কত টাকা বরাদ্দ রয়েছে?

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দের পরিমাণ ৩ হাজার ৭৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কি ১ হাজার টাকা হচ্ছে?

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে প্রকাশিত কর্মসূচি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অধিকাংশ উপকারভোগীর জন্য ৯০০ টাকা এবং একটি অংশের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। তাই চূড়ান্ত বাস্তবায়নসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবন্ধী ভাতা বছরে কত টাকা পাওয়া যায়?

মাসিক ৯০০ টাকা হলে বছরে ১০ হাজার ৮০০ টাকা এবং মাসিক ১ হাজার টাকা হলে বছরে ১২ হাজার টাকা হয়।

প্রতিবন্ধী ভাতার সরকারি তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?

সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি, উপকারভোগীর সংখ্যা, ভাতার হার, যোগ্যতা ও অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়।

শেষ কথা

বাংলাদেশে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি শুরুর পর দুই দশকের বেশি সময়ে এর আওতা ও সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ২০০ টাকা মাসিক ভাতা দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জনপ্রতি মাসিক ভাতার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০০ টাকা। একই সময়ে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার থেকে বেড়ে ৩৪ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ভাতা ১ হাজার টাকা এবং উপকারভোগী ৩৮ লাখ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও কর্মসূচি বাস্তবায়নসংক্রান্ত পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তে ভাতার হার ও উপকারভোগীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই নতুন অর্থবছরের ভাতা সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য জানতে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

সামাজিক নিরাপত্তার এই কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে হলে শুধু ভাতার পরিমাণ বাড়ানো নয়, প্রকৃত অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা, নতুন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত করা এবং সময়মতো অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026