শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুরুষদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, কোন দেশে চালু হয়েছে? সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম, অনলাইন টিকিট ও ফি রকেট কাস্টমার কেয়ার নাম্বার কত? ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন আপনার কন্যাসন্তানের জন্য প দিয়ে যেসব সুন্দর নাম রাখতে পারেন গোপালগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ওয়ারেন্টভুক্ত ১০ আসামি গ্রেপ্তার ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই, শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের লক্ষ্য কী? মোটরসাইকেলসহ চালকদের জন্য বিআরটিএর নতুন নির্দেশনা গ্রাম পুলিশের বেতন, অবসর ভাতা ও যাতায়াত ভাতা কত বাড়ল

পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম, অনলাইন টিকিট ও ফি

  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৬.৩১ পিএম
  • ১০ Time View
14

ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত পিজি হাসপাতাল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চতর চিকিৎসা ও চিকিৎসাশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জটিল রোগের চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এখানে আসেন। তবে প্রথমবার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে অনেকেই বুঝতে পারেন না কীভাবে ডাক্তার দেখাতে হয়, কোথা থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়, অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নিয়ম কী এবং চিকিৎসকের পরামর্শ পেতে কত টাকা খরচ হয়।

বর্তমানে পিজি হাসপাতালের পরিচিত নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU) থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান নাম বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (Bangladesh Medical University বা BMU)। প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান শাহবাগ, ঢাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর পর রোগীদের বাসা থেকে বহির্বিভাগের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া, অনলাইনে পেমেন্ট করা এবং নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তাই পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সরাসরি টিকিট সংগ্রহ, চিকিৎসার বিভাগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং হাসপাতালের যোগাযোগের তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকলে রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে।

পিজি হাসপাতাল বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়?

পিজি হাসপাতাল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত। চিকিৎসা, গবেষণা ও উচ্চতর চিকিৎসাশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা BSMMU নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (BMU) নামে পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতালটিতে মেডিসিন, হৃদরোগ, কিডনি, স্নায়ুরোগ, ক্যানসার, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, চর্মরোগ, চক্ষু, নাক-কান-গলা, গাইনি ও প্রসূতিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি জটিল রোগ নির্ণয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে।

পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম কী?

পিজি হাসপাতালে বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য বর্তমানে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। রোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ ও পেমেন্ট সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত সময় এবং বিভাগ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়।

এ ছাড়া অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে অসুবিধা হলে হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহের বিষয়ে সরাসরি খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তবে কাউন্টারে টিকিট দেওয়া, সময়সূচি ও বিভাগভিত্তিক আসনসংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই হাসপাতালে যাওয়ার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো।

অনলাইনে পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম

অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের ঝামেলা কমানো। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় রোগীরা নির্ধারিত বিভাগ ও সময় অনুযায়ী অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোগীদের অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে প্রিন্টসহ হাসপাতালে আসার পরামর্শ দিয়েছে।

অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্য প্রথমে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://www.bmu.ac.bd/

এরপর ওয়েবসাইটে থাকা Patient Online Appointment অথবা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করতে হবে। পরবর্তী ধাপে রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্টের ধরন, চিকিৎসার বিভাগ, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য এবং উপলভ্য সময় নির্বাচন করতে হবে।

সাধারণত অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্ষেত্রে রোগীর নাম, বয়স, মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হতে পারে। এরপর ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। পেমেন্ট সফল হলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের টিকিট বা নিশ্চিতকরণ তথ্য পাওয়া যায়।

টিকিটটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখা ভালো। নির্ধারিত দিনে টিকিট, মোবাইল ফোন এবং আগের চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হতে হবে।

অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে রোগীদের জন্য আলাদা Patient Portal রয়েছে। সেখানে নতুন রোগীর নিবন্ধনের জন্য মোবাইল নম্বর, রোগীর নাম, জন্মতারিখ বা বয়স, লিঙ্গ, ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ঐ নিবন্ধন ফরমে ঐচ্ছিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পোর্টালে প্রবেশ করে পরবর্তী অ্যাপয়েন্টমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

রোগীদের জন্য সরাসরি অনলাইন পোর্টাল: https://opd.bmu.ac.bd/

অনলাইন নিবন্ধনের সময় নিজের সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা উচিত। কারণ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণ, লগইন অথবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য মোবাইল নম্বর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্য কারও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করলে পরবর্তী সময়ে অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে।

পিজি হাসপাতালে অনলাইন টিকিট কাটার পর কী করবেন?

অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার পর শুধু টিকিট সংগ্রহ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নির্ধারিত দিনে সঠিক সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হওয়াও জরুরি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের টিকিট প্রিন্ট করে সঙ্গে আনার পরামর্শ দিয়েছে। এতে রোগীরা নির্ধারিত সময় ও কক্ষে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন এবং টিকিট সংগ্রহের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন কমবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন রোগীর সঙ্গে নিচের কাগজপত্র ও তথ্য রাখা ভালো:

অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রিন্ট করা টিকিট।

অ্যাপয়েন্টমেন্টে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন।

জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধনের তথ্য।

আগের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন।

রক্ত, প্রস্রাব, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষার রিপোর্ট।

বর্তমানে সেবন করা ওষুধের নাম ও ডোজের তালিকা।

আগে কোনো হাসপাতালে ভর্তি বা অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে তার কাগজপত্র।

বিশেষ করে দীর্ঘদিনের রোগী, কিডনি রোগী, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগী কিংবা ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আগের চিকিৎসার সব গুরুত্বপূর্ণ নথি সঙ্গে রাখা উচিত। এতে চিকিৎসক রোগের ইতিহাস বুঝতে এবং পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা পান।

পিজি হাসপাতালে সরাসরি গিয়ে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম

সব রোগীর পক্ষে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সম্ভব হয় না। কারও ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা থাকতে পারে, আবার কেউ প্রথমবার হাসপাতালে যাওয়ার কারণে অনলাইন পদ্ধতি বুঝতে নাও পারেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন।

সরাসরি চিকিৎসা নিতে চাইলে প্রথমে হাসপাতালের আউটডোর বা বহির্বিভাগে যেতে হবে। সেখানে রোগীর সমস্যা অনুযায়ী কোন বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন, তা বুঝে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। নতুন রোগী হলে নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। আগে চিকিৎসা নিয়ে থাকলে পুরোনো টিকিট, রোগীর আইডি বা চিকিৎসার কাগজপত্র সঙ্গে রাখা ভালো।

এরপর নির্ধারিত নিয়মে টিকিট সংগ্রহ ও ফি পরিশোধ করে টিকিটে উল্লেখিত বিভাগ, কক্ষ অথবা কাউন্টারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। হাসপাতালের ভেতরে একাধিক ভবন ও চিকিৎসা বিভাগ থাকায় শুধু অনুমানের ভিত্তিতে কোনো কক্ষে যাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে তথ্যকেন্দ্র বা দায়িত্বরত কর্মীদের কাছ থেকে নির্দেশনা নিতে হবে।

আগের পোস্টে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে উপস্থিত হওয়া এবং সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগের সময়সূচির কথা উল্লেখ ছিল। তবে বর্তমান অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। বিভাগভেদে চিকিৎসকের উপস্থিতি, রোগী গ্রহণের সময় এবং টিকিটের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সর্বশেষ সময়সূচি নিশ্চিত করা উচিত।

পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর টিকিটের দাম কত?

পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর খরচ সম্পর্কে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যায় বলে রোগীদের আগ্রহ বেশি। তবে বহির্বিভাগের সাধারণ টিকিট, বিকেলের বিশেষজ্ঞ সেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্যান্য চিকিৎসার খরচ এক নয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরোনো অনলাইন পোস্টে সাধারণ বহির্বিভাগের টিকিট ৫০ থেকে ১০০ টাকা বলা হলেও সেটিকে বর্তমান নির্ধারিত ফি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে ৩০ টাকা বা ২০০ টাকার মতো ফি উল্লেখ থাকলেও সব বিভাগের জন্য এগুলো প্রযোজ্য কি না, তার হালনাগাদ সরকারি নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

বর্তমান টিকিটের মূল্য জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল Patient Appointment Portal-এ সংশ্লিষ্ট অ্যাপয়েন্টমেন্টের ফি দেখা অথবা সরাসরি হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টারে জেনে নেওয়া। অনলাইনে পেমেন্টের আগে প্রদর্শিত টাকার পরিমাণ ও সেবার ধরন ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, চিকিৎসকের পরামর্শের টিকিটের খরচের সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ওষুধ, অস্ত্রোপচার কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব সেবার জন্য আলাদা খরচ হতে পারে।

পিজি হাসপাতালে বিকেলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর নিয়ম

সকালের বহির্বিভাগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতাল বিভাগে বিকেলের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও রয়েছে। হাসপাতালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে Evening Specialized Outdoor Patient Service নামে সেবার উল্লেখ রয়েছে। তবে সব বিভাগে প্রতিদিন একই সময়ে বা একই ধরনের চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন, এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না।

বিকেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সেবা চালু আছে কি না, কোন চিকিৎসক রোগী দেখবেন, টিকিটের মূল্য কত এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে নিতে হবে, তা আগে নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষ করে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক বা জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চাইলে চিকিৎসকের উপস্থিতি ও নির্ধারিত সময় জেনে যাওয়া ভালো।

পিজি হাসপাতালে কোন কোন বিভাগে চিকিৎসা পাওয়া যায়?

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগে বিস্তৃত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল স্বাস্থ্যসেবা পোর্টালে মেডিসিন, হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ, কিডনি, লিভার, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, চর্ম ও যৌনরোগ, হরমোন, শিশুস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিভাগের তথ্য রয়েছে।

মেডিসিন বিভাগ: জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সাধারণ ও জটিল অভ্যন্তরীণ রোগের চিকিৎসার জন্য মেডিসিন বা ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগে পরামর্শ নেওয়া যায়।

কার্ডিওলজি বিভাগ: বুকব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা এবং হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যার জন্য হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়।

নিউরোলজি বিভাগ: মাথাব্যথা, খিঁচুনি, স্ট্রোক-পরবর্তী সমস্যা, স্নায়ুর দুর্বলতা, হাত-পা অবশ হওয়া এবং অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নেফ্রোলজি বিভাগ: কিডনির বিভিন্ন রোগ, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিলতা এবং কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য এই বিভাগে যোগাযোগ করা যায়।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ: পেটব্যথা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়।

এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হরমোনজনিত সমস্যা এবং বিপাকীয় রোগের চিকিৎসা করা হয়।

চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ: ত্বকের সংক্রমণ, চুলকানি, অ্যালার্জি, ব্রণ, চুল ও নখের সমস্যা এবং যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসা নেওয়া যায়।

গাইনি ও প্রসূতি বিভাগ: নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য, মাসিকের অনিয়ম, গর্ভাবস্থা, বন্ধ্যত্ব এবং অন্যান্য স্ত্রীরোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়।

শিশু বিভাগ: নবজাতক ও শিশুদের বিভিন্ন রোগ, বৃদ্ধি ও বিকাশজনিত সমস্যা এবং শিশুস্বাস্থ্য সংক্রান্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া চক্ষু, নাক-কান-গলা, সার্জারি, অর্থোপেডিকস, মনোরোগ, ক্যানসার চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বিভাগেও চিকিৎসাসেবা রয়েছে। রোগের ধরন অনুযায়ী সঠিক বিভাগ নির্বাচন করতে না পারলে প্রথমে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

পিজি হাসপাতালে জরুরি বিভাগ কি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে?

পিজি হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম এক নয়। বহির্বিভাগে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। অন্যদিকে জরুরি বিভাগে আকস্মিক গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনাজনিত সমস্যায় জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকে।

বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, স্ট্রোকের লক্ষণ, গুরুতর রক্তপাত কিংবা দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে সাধারণ বহির্বিভাগের টিকিটের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য অন্তর্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বহির্বিভাগের সময়সূচির বাইরে নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়। ছুটির দিনেও জরুরি ও অন্তর্বিভাগের সেবা এবং বহির্বিভাগের কার্যক্রমের মধ্যে পার্থক্য থাকে।

পিজি হাসপাতালের ডাক্তার দেখানোর সময়সূচি ও বন্ধের দিন

পিজি হাসপাতালে কখন ডাক্তার দেখানো যাবে, তা রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত সরকারি হাসপাতালের নিয়মিত বহির্বিভাগ নির্ধারিত কর্মদিবসে পরিচালিত হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছুটির নোটিশ, বিশেষায়িত বিভাগ, বিকেলের আউটডোর এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি আলাদা হতে পারে।

তাই আগের প্রচলিত সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সময়সূচিকে সব বিভাগের বর্তমান নিশ্চিত সময়সূচি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় যে তারিখ, সময় ও বিভাগ দেখানো হবে, সেটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিশেষ করে শুক্রবার, শনিবার, সরকারি ছুটি কিংবা ঈদের সময় বহির্বিভাগের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট দুই দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, ছুটির সময়সূচি পরিবর্তনশীল।

পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গেলে কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন?

প্রথমবার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে আগে থেকেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। এতে সময় বাঁচবে এবং চিকিৎসকের কাছে রোগের ইতিহাস বুঝিয়ে বলতে সুবিধা হবে।

প্রথমত, রোগীর সমস্যা অনুযায়ী সঠিক বিভাগ নির্বাচন করুন। যেমন হৃদরোগের সমস্যা হলে কার্ডিওলজি, কিডনির সমস্যা হলে নেফ্রোলজি এবং স্নায়ুর সমস্যার জন্য নিউরোলজি বিভাগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় রোগীর নাম, জন্মতারিখ, বয়স, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিন। ভুল তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করলে পরবর্তী সময়ে পরিচয় যাচাই বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে সমস্যা হতে পারে।

তৃতীয়ত, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে রোগের লক্ষণগুলো কখন থেকে শুরু হয়েছে, কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, আগে কী চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কোন ওষুধ সেবন করছেন, তা মনে রাখুন বা লিখে নিন।

চতুর্থত, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছায় পুরোনো ওষুধ বন্ধ বা নতুন ওষুধ শুরু করবেন না। আগের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে পরবর্তী করণীয় জেনে নিন।

পঞ্চমত, হাসপাতালের ভেতরে দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে টিকিট, সিরিয়াল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর চেষ্টা করবেন না। সব সময় অফিসিয়াল কাউন্টার ও অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করুন।

পিজি হাসপাতালের ঠিকানা, ফোন নম্বর ও যোগাযোগের তথ্য

পিজি হাসপাতাল বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত। রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালের অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল যোগাযোগের তথ্য ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারেন।

বিষয়

বিস্তারিত

বর্তমান নাম

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (BMU)

পূর্বপরিচিত নাম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU)

পরিচিত নাম

পিজি হাসপাতাল

ঠিকানা

শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

www.bmu.ac.bd

অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট

opd.bmu.ac.bd

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোন

+৮৮০২-৫৫১৬৫৭০৮

ই-মেইল

registrar@bmu.ac.bd

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল যোগাযোগ পাতায় শাহবাগ, ঢাকা-১০০০ ঠিকানা এবং ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।

পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে কি আগে থেকে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়?

অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং রোগীদের এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সহজ হয়। সরাসরি টিকিটের সুযোগ ও নিয়ম সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে নিশ্চিত করতে হবে।

২. পিজি হাসপাতালে অনলাইনে টিকিট কাটার ওয়েবসাইট কোনটি?

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.bmu.ac.bd থেকে Patient Appointment অপশনে প্রবেশ করা যায়। সরাসরি রোগীর পোর্টাল হলো https://opd.bmu.ac.bd/।

৩. পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর ফি কত টাকা?

চিকিৎসার বিভাগ, সেবার ধরন ও নির্ধারিত টিকিট অনুযায়ী ফি ভিন্ন হতে পারে। তাই অনলাইন পোর্টালে প্রদর্শিত মূল্য অথবা হাসপাতালের কাউন্টার থেকে বর্তমান ফি জেনে নেওয়া উচিত।

৪. পিজি হাসপাতালে কি অধ্যাপক ডাক্তার দেখানো যায়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যাপকসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট দিনে কোন চিকিৎসক রোগী দেখবেন, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সময়সূচি ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের ওপর নির্ভর করে।

৫. পিজি হাসপাতালে শুক্রবার ডাক্তার দেখানো যায় কি?

নিয়মিত বহির্বিভাগের সেবা ছুটির দিনে সাধারণত সীমিত বা বন্ধ থাকতে পারে। তবে বিশেষ নোটিশ অনুযায়ী কার্যক্রম পরিবর্তিত হয়। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে।

৬. পিজি হাসপাতালে অনলাইন টিকিট কাটার পর কি প্রিন্ট করতে হবে?

হ্যাঁ, অনলাইন টিকিট প্রিন্ট করে সঙ্গে নেওয়া ভালো। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও রোগীদের প্রিন্ট করা টিকিট নিয়ে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

৭. পিজি হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা করানো যায় কি?

হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশুস্বাস্থ্য, নবজাতক এবং শিশুদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে। রোগের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত বিভাগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

৮. পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে কি জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে?

অনলাইন নিবন্ধন ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ঐচ্ছিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে রোগীর পরিচয় যাচাই বা বিশেষ সেবার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। তাই পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো।

উপসংহার

পিজি হাসপাতাল বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রোগীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার কারণে ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সিরিয়াল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার আগে সঠিক বিভাগ নির্বাচন, টিকিটের মূল্য যাচাই, নির্ধারিত সময় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট সঙ্গে রাখা জরুরি।

যারা প্রথমবার পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে চান, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম জেনে নিতে পারেন। এতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমবে এবং চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

আরও পড়ুন: পিজি হাসপাতাল অনলাইন টিকিট বুকিং করার নিয়ম

আরও পড়ুন: পিজি হাসপাতাল কবে বন্ধ থাকে

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026