
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজকের জাগরণ
সাবরিনা বিনতে আহমেদ-কে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে তাকে ঘিরে ইতিবাচক আলোচনা ও জনমত গড়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত থাকা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জবাসীর কাছে পরিচিত ও আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষকতা জীবনে তিনি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার জনসম্পৃক্ততার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছে।
শিক্ষকতা পেশা থেকে সরে এসে তিনি নিজেকে পুরোপুরি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেন। তার বিশ্বাস—“মানুষ গড়লেই সমাজ বদলায়, দেশ বদলায়।” এই দর্শন সামনে রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সেলিমুজ্জামান সেলিম-এর সহধর্মিনী। পাশাপাশি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি শহিদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
বর্তমানে তিনি নিজ এলাকার জয়নগর ইয়ার আলী খান ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাশিয়ানী–মুকসুদপুর অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা-ঘাট, মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সময় তিনি সহকর্মীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দলীয় বার্তা তুলে ধরেন এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা সরাসরি শোনেন—যা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।
গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়; বরং জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা। অবহেলিত জনগোষ্ঠী, অসহায় নারী ও তরুণ সমাজের পাশে দাঁড়ানোই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে তারা উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারি বা দলীয় পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জনমত, স্থানীয় প্রতিক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপরই তার সম্ভাবনা নির্ভর করবে।
এ প্রসঙ্গে সাবরিনা বিনতে আহমেদ বলেন, “রাজনীতি মানে মানুষের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। সততা, সাহস ও ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের সেবা করাই আমার অঙ্গীকার।” তিনি আরও জানান, জনগণের সমর্থন ও দোয়াই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার নেতৃত্বে গোপালগঞ্জের অবহেলিত জনগোষ্ঠী আরও সচেতন ও সংগঠিত হবে এবং সমাজে নতুন আশার সঞ্চার ঘটবে। জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জের মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে তিনি প্রস্তুত—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।