শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা, অচল হবে যেসব ফোন মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ৫১ মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপের স্মার্টওয়াচ ও ইয়ারবাড আনল মটোরোলা, রয়েছে যে সব সুবিধা ই-পর্চা দিয়ে ঘরে বসেই পৈতৃক জমি খুঁজবেন যেভাবে পা ফাটা দূর করার কার্যকরী ঘরোয়া উপায় মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম (আপডেট) শীতে বাচ্চাদের জন্য কোন তেল ভালো? সরকারিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পেতে আবেদন করার নিয়ম (আপডেট) বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ হজ করতে কত টাকা লাগে? চুটকি বাজিয়ে ব্যাটসম্যানকে আউট করানো সেই ক্রিকেটার নিষিদ্ধ, শাস্তি পেল ক্লাবও

ই-পর্চা দিয়ে ঘরে বসেই পৈতৃক জমি খুঁজবেন যেভাবে

  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০.১৪ এএম
  • ১৮ Time View
36

বাংলাদেশে অনেক পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে গ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু পরিবারের সবাই সেই জমির অবস্থান বা পরিমাণ সম্পর্কে জানেন না। কারও বাবা বা দাদার নামে জমি থাকলেও উত্তরাধিকারীরা হয়তো জানেন না জমিটি কোন মৌজায়, কতটুকু জমি রয়েছে কিংবা কোন খতিয়ানে তার তথ্য সংরক্ষিত আছে। আবার দীর্ঘদিন জমির খোঁজখবর না রাখলে মালিকানা, দখল ও কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মানুষের জন্য গ্রামের জমিজমার নিয়মিত খোঁজ রাখা কঠিন। অনেক সময় জমির তথ্য জানতে দূরের গ্রামে যেতে হয়, ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে হয় কিংবা পুরোনো কাগজপত্র খুঁজতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়।

এ ধরনের অনুসন্ধান সহজ করতে সরকার চালু করেছে ই-পর্চা বা e-Porcha অনলাইন সেবা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার খতিয়ান অনুসন্ধান করে জমির রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য দেখা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—অনলাইনে কোনো ব্যক্তির নামে খতিয়ান পাওয়া গেলেই জমিটির বর্তমান মালিকানা, দখল বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত সব তথ্য নিশ্চিত হয়ে যায় না। জমি কেনাবেচা, বণ্টন বা আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দলিল, সর্বশেষ রেকর্ড, নামজারি ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

এই লেখায় ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ থেকে শুরু করে বাবার, দাদার কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যের নামে জমি খুঁজে বের করার নিয়ম ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।

ই-পর্চা কী এবং এই সেবার মাধ্যমে কী জানা যায়?

ই-পর্চা হলো ভূমি রেকর্ড ও খতিয়ানসংক্রান্ত সরকারি অনলাইন সেবা। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা নির্দিষ্ট এলাকার জমির খতিয়ান অনুসন্ধান করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খতিয়ানের অনলাইন বা সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করতে পারেন।

খতিয়ান হলো জমির রেকর্ড বা স্বত্বলিপি। এতে জমির মালিক বা মালিকদের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, জমির শ্রেণি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য থাকতে পারে।

ই-পর্চা বা ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার মাধ্যমে সাধারণত যেসব তথ্য অনুসন্ধান করা যায়—

জমির মালিক বা রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তির নাম।

মালিকের পিতার নাম।

খতিয়ান নম্বর।

দাগ নম্বর।

মৌজার নাম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য।

রেকর্ডে উল্লেখিত জমির পরিমাণ।

জমির শ্রেণি ও অন্যান্য রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য।

নির্দিষ্ট খতিয়ানের অনলাইন কপি।

সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদনসংক্রান্ত তথ্য।

তবে সব এলাকার সব পুরোনো রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো তথ্য অনলাইনে না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা জেলা রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করতে হতে পারে।

ই-পর্চা ওয়েবসাইটের ঠিকানা কী?

জমির খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য সরকারি ভূমি সেবার ওয়েবসাইট ব্যবহার করা জরুরি। আগে ই-পর্চা সেবার পরিচিত ঠিকানা ছিল www.eporcha.gov.bd। ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার বর্তমান অনলাইন ব্যবস্থায় dlrms.land.gov.bd ঠিকানাটিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের মূল ওয়েবসাইট www.land.gov.bd থেকে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার লিংকে প্রবেশ করা যায়।

অনলাইনে জমির তথ্য খোঁজার সময় ঠিকানাটি সরকারি কি না, তা ভালোভাবে যাচাই করুন। ই-পর্চার নাম ব্যবহার করে অনেক বেসরকারি তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট থাকতে পারে। এসব ওয়েবসাইটে সাধারণ নির্দেশনা পাওয়া গেলেও সরকারি আবেদন ও অর্থ পরিশোধের জন্য সরকারি .gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই নিরাপদ।

ই-পর্চা দিয়ে বাবার-দাদার নামে জমি খুঁজবেন যেভাবে

আপনার বাবা, দাদা, নানা কিংবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের নামে জমির খতিয়ান খুঁজতে হলে প্রথমে জমিটি কোন এলাকায় রয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু ধারণা থাকা প্রয়োজন। যেমন—বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজার নাম।

এই তথ্যগুলো জানা থাকলে অনলাইনে অনুসন্ধান করা অনেক সহজ হয়।

ধাপ ১: সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

প্রথমে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজার খুলুন। এরপর সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার ওয়েবসাইট dlrms.land.gov.bd-এ প্রবেশ করুন।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে সমস্যা হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মূল ওয়েবসাইট land.gov.bd ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সেবার লিংক খুঁজে নিতে পারেন।

ধাপ ২: খতিয়ান অনুসন্ধান অপশন নির্বাচন করুন

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর খতিয়ান অনুসন্ধান বা সংশ্লিষ্ট সার্চ অপশন নির্বাচন করুন। সেবার বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী সার্ভে খতিয়ান অথবা নামজারি খতিয়ানের অনুসন্ধান অপশন থাকতে পারে।

আপনি যে ধরনের জমির রেকর্ড খুঁজছেন, সে অনুযায়ী সঠিক অপশন নির্বাচন করতে হবে।

ধাপ ৩: বিভাগ, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন করুন

এবার জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেই অনুযায়ী বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা নির্বাচন করুন।

উদাহরণ হিসেবে, আপনার দাদার জমি যদি কুমিল্লা জেলার কোনো উপজেলায় থাকে, তাহলে প্রথমে চট্টগ্রাম বিভাগ, এরপর কুমিল্লা জেলা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন করতে হবে।

এখানে ভুল জেলা বা উপজেলা নির্বাচন করলে কাঙ্ক্ষিত জমির তথ্য পাওয়া যাবে না। তাই অনুসন্ধানের আগে পরিবারের পুরোনো দলিল, খাজনার রসিদ বা অন্যান্য কাগজপত্র থেকে এলাকার নাম নিশ্চিত করে নিন।

ধাপ ৪: খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করুন

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ভূমি জরিপের মাধ্যমে আলাদা আলাদা খতিয়ান তৈরি হয়েছে। তাই জমির তথ্য অনুসন্ধানের সময় সঠিক জরিপের ধরন নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণত যেসব খতিয়ানের নাম দেখা যায়—

CS খতিয়ান: ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে বা প্রাথমিক ভূমি জরিপের রেকর্ড।

SA খতিয়ান: স্টেট অ্যাকুইজিশন বা জমিদারি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জরিপের রেকর্ড।

RS খতিয়ান: রিভিশনাল সার্ভে বা সংশোধিত জরিপের রেকর্ড।

BS খতিয়ান: বাংলাদেশ সার্ভে বা পরবর্তী পর্যায়ের জরিপের রেকর্ড।

সিটি জরিপ: নির্দিষ্ট নগর এলাকার ভূমি জরিপের রেকর্ড।

আপনার পরিবারের পুরোনো কাগজপত্রে যে জরিপের নাম বা খতিয়ানের ধরন উল্লেখ রয়েছে, সেটি নির্বাচন করুন। একই জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন জরিপে আলাদা খতিয়ান নম্বর থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে একাধিক জরিপের রেকর্ড আলাদাভাবে অনুসন্ধান করতে হবে।

ধাপ ৫: মৌজার নাম নির্বাচন করুন

জমির খতিয়ান খুঁজতে মৌজার নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই উপজেলায় অনেকগুলো মৌজা থাকতে পারে। তাই জমিটি যে মৌজায় অবস্থিত, সেই মৌজা নির্বাচন করুন।

মৌজার নামের পাশাপাশি কোথাও কোথাও জেএল নম্বর বা Jurisdiction List Number প্রয়োজন হতে পারে। পুরোনো দলিল, খতিয়ান বা জমির কাগজপত্রে এই তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মৌজার নাম জানা না থাকলে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন। প্রয়োজনে পুরোনো দলিল বা খাজনার রসিদ দেখে নিশ্চিত হন।

ধাপ ৬: মালিকের নাম, খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন

এবার জমির তথ্য খোঁজার জন্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান পদ্ধতি নির্বাচন করুন। সাধারণত খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নামের মতো তথ্য দিয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ থাকতে পারে।

আপনি যদি আপনার দাদার নামে জমি খুঁজতে চান, তাহলে রেকর্ডে থাকা তাঁর নাম দিয়ে অনুসন্ধান করতে পারেন। একইভাবে বাবার, নানার বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের নাম দিয়েও খোঁজ করা সম্ভব হতে পারে।

তবে নামের বানান, বাংলা ও ইংরেজি লেখার পার্থক্য কিংবা পুরোনো রেকর্ডে ব্যবহৃত নামের কারণে অনুসন্ধানে সমস্যা হতে পারে। তাই নামের একাধিক বানান জানা থাকলে সেগুলো দিয়েও চেষ্টা করুন।

ধাপ ৭: ক্যাপচা পূরণ করে অনুসন্ধান করুন

প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোড সঠিকভাবে পূরণ করুন। এরপর অনুসন্ধান বা সার্চ বাটনে ক্লিক করুন।

তথ্য সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের ফলাফল দেখা যেতে পারে। সেখানে খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণের মতো তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

তবে অনুসন্ধানে কোনো ফলাফল না এলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। মৌজার নাম, জরিপের ধরন, মালিকের নামের বানান বা দাগ নম্বর আবার যাচাই করে চেষ্টা করুন।

বাবার বা দাদার নামে জমি খুঁজতে কোন তথ্যগুলো আগে সংগ্রহ করবেন?

ই-পর্চায় অনুসন্ধানের আগে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে রাখলে কাজ সহজ হয়। বিশেষ করে পরিবারের পুরোনো জমির কাগজপত্র থাকলে সেগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় তথ্য

কেন দরকার

বিভাগ ও জেলা

জমির প্রশাসনিক অবস্থান শনাক্ত করতে

উপজেলা

সংশ্লিষ্ট এলাকার রেকর্ড খুঁজতে

মৌজার নাম

নির্দিষ্ট ভূমি রেকর্ড শনাক্ত করতে

মালিকের নাম

নাম অনুযায়ী খতিয়ান খুঁজতে

পিতার নাম

একই নামের ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে

খতিয়ান নম্বর

নির্দিষ্ট খতিয়ান দ্রুত খুঁজতে

দাগ নম্বর

জমির নির্দিষ্ট প্লট শনাক্ত করতে

জরিপের ধরন

CS, SA, RS, BS বা অন্য রেকর্ড নির্বাচন করতে

সব তথ্য একসঙ্গে জানা না থাকলেও অনুসন্ধান করা সম্ভব হতে পারে। তবে মৌজার নাম, জেলা ও উপজেলার তথ্য জানা থাকলে খোঁজ করা অনেক সহজ হয়।

অনলাইনে খতিয়ান পাওয়া না গেলে কী করবেন?

অনেক সময় সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পরও অনলাইনে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান পাওয়া যায় না। এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে।

প্রথমত, সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরোনো খতিয়ান এখনো অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত না-ও হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মৌজার নাম বা জরিপের ধরনে ভুল থাকতে পারে। তৃতীয়ত, মালিকের নামের বানান পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে না মিললে অনুসন্ধানে ফলাফল নাও আসতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করুন—

১. জেলা, উপজেলা ও মৌজার নাম আবার যাচাই করুন।

২. CS, SA, RS বা BS-এর মধ্যে সঠিক জরিপ নির্বাচন করেছেন কি না দেখুন।

৩. মালিকের নামের বিকল্প বানান দিয়ে অনুসন্ধান করুন।

৪. পুরোনো দলিল, খাজনার রসিদ বা খতিয়ানের কপি থেকে দাগ ও খতিয়ান নম্বর সংগ্রহ করুন।

৫. প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করুন।

৬. অনলাইনে তথ্য না থাকলে সরকারি ভূমি সেবা সহায়তা নম্বর ১৬১২২-এ যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিতে পারেন।

ই-পর্চা থেকে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি পাবেন যেভাবে

অনলাইনে জমির খতিয়ান খুঁজে পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করা যায়। জমির রেকর্ডের সত্যায়িত কপি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনগত কাজে প্রয়োজন হতে পারে।

সাধারণভাবে আবেদন করার প্রক্রিয়া হলো—

১. সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় প্রবেশ করুন।

২. প্রয়োজনীয় খতিয়ান অনুসন্ধান করুন।

৩. সঠিক খতিয়ান শনাক্ত করে সার্টিফায়েড কপির আবেদন অপশন নির্বাচন করুন।

৪. আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য ও যোগাযোগের ঠিকানা দিন।

৫. ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন সম্পন্ন করুন।

৬. নির্ধারিত সরকারি ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন।

৭. আবেদন নম্বর বা রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ করুন।

আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করা যায়। সেবার ধরন অনুযায়ী ডাকযোগে বাসায় পাওয়া অথবা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকতে পারে।

আবেদনের সময় নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও খতিয়ানের তথ্য সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করুন। কোনো ভুল থাকলে কপি পেতে বিলম্ব হতে পারে।

ই-পর্চা খতিয়ানের সরকারি ফি কত?

খতিয়ান অনুসন্ধান এবং সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের ফি এক নয়। সাধারণভাবে অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করে তথ্য দেখা যায় বিনা খরচে। তবে সার্টিফায়েড কপির জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি দিতে হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী—

সেবার ধরন

সরকারি ফি

খতিয়ান অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে প্রাপ্তি

১০০ টাকা

খতিয়ান সার্টিফায়েড কপি

১০০ টাকা

ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপি গ্রহণের ডাক মাশুল

৪০ টাকা

ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপির মোট ফি

১৪০ টাকা

ফি ও সেবার নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি দেখে অর্থ পরিশোধ করুন। কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

খতিয়ান পাওয়া মানেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত?

এটি জমি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। অনলাইনে কোনো ব্যক্তির নামে খতিয়ান পাওয়া মানেই ওই জমির বর্তমান মালিকানা বা দখল নিশ্চিত হয়ে গেছে—এমন নয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খতিয়ান হলো জমির রেকর্ড বা স্বত্বলিপি। এটি নিজে মালিকানার দলিল নয়। খতিয়ানে জমির মালিক বা রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তির নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং অন্যান্য তথ্য থাকতে পারে। কিন্তু জমির মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কিছু কাগজপত্র ও তথ্য বিবেচনা করতে হয়।

যেমন—

জমির মূল দলিল ও পরবর্তী হস্তান্তর দলিল।

সর্বশেষ খতিয়ান বা রেকর্ড।

নামজারি বা মিউটেশনের তথ্য।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা।

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশসংক্রান্ত কাগজপত্র।

জমির বাস্তব দখল ও সীমানাসংক্রান্ত তথ্য।

বিশেষ করে পৈতৃক সম্পত্তির ক্ষেত্রে দাদা বা বাবার নামে পুরোনো খতিয়ান পাওয়া গেলেই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কার কত অংশ রয়েছে, তা নিশ্চিত হয়ে যায় না। উত্তরাধিকার আইন, জমির পরবর্তী হস্তান্তর, বণ্টন এবং নামজারির তথ্যও যাচাই করতে হয়।

তাই জমি কেনা, বিক্রি, বণ্টন বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ আইনজীবী অথবা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করা ভালো।

পৈতৃক জমি খুঁজে পাওয়ার পর কী করবেন?

ই-পর্চায় পরিবারের পূর্বপুরুষের নামে জমির তথ্য পাওয়া গেলে শুধু অনলাইনে তথ্য দেখে থেমে থাকা উচিত নয়। জমির বর্তমান অবস্থা এবং কাগজপত্রের ধারাবাহিকতা যাচাই করা জরুরি।

প্রথমে খতিয়ানের তথ্যের সঙ্গে পরিবারের কাছে থাকা পুরোনো দলিল, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ মিলিয়ে দেখুন। এরপর জমিটি বর্তমানে কার দখলে রয়েছে, সেখানে কোনো স্থাপনা বা চাষাবাদ হচ্ছে কি না এবং জমির সীমানা কোথায়, তা সরেজমিনে যাচাই করুন।

পরিবারের একাধিক উত্তরাধিকারী থাকলে সবার অংশ ও অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী নামজারি, জমাভাগ বা অন্যান্য ভূমিসেবা গ্রহণ করুন।

জমির কোনো অংশ অন্যের দখলে রয়েছে বলে মনে হলে নিজে থেকে বিরোধে জড়ানোর পরিবর্তে কাগজপত্র সংগ্রহ করে আইনজীবীর পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাইতে পারেন।

ই-পর্চা ব্যবহারের সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

অনলাইনে জমির তথ্য অনুসন্ধান সহজ হলেও কিছু ভুলের কারণে ভুল খতিয়ান পাওয়া বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সরকারি ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো সাইটে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ প্রদান করবেন না।

একই নামে একাধিক মালিক থাকতে পারে, তাই পিতার নাম ও মৌজার তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

খতিয়ানের ধরন ভুল নির্বাচন করবেন না।

পুরোনো ও নতুন জরিপের খতিয়ান নম্বর এক ধরে নেবেন না।

শুধু অনলাইন অনুসন্ধানের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে জমি কেনাবেচার সিদ্ধান্ত নেবেন না।

সার্টিফায়েড কপি ও সাধারণ অনলাইন প্রদর্শিত কপির পার্থক্য বুঝে নিন।

আবেদন নম্বর, পেমেন্ট রসিদ এবং প্রাপ্ত কপি সংরক্ষণ করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. ই-পর্চা দিয়ে কি বাবার নামে জমি খুঁজে পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য জানা থাকলে বাবার নাম বা অন্যান্য রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধানের চেষ্টা করা যায়। তবে ফলাফল নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড অনলাইনে রয়েছে কি না এবং দেওয়া তথ্য সঠিক কি না, তার ওপর।

২. দাদার নামে কোথায় কতটুকু জমি আছে, তা কি অনলাইনে জানা যাবে?

দাদার নামে থাকা জমির খতিয়ান অনলাইনে পাওয়া গেলে সেখানে রেকর্ডভুক্ত দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ দেখা যেতে পারে। তবে সব জমি একই খতিয়ানে থাকবে, এমন নয়। বিভিন্ন মৌজা বা জরিপে আলাদা খতিয়ান থাকতে পারে।

৩. শুধু নাম দিয়ে কি জমির খতিয়ান খুঁজে পাওয়া সম্ভব?

কিছু অনুসন্ধান ব্যবস্থায় মালিকের নাম দিয়ে খোঁজার সুযোগ থাকে। তবে একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই পিতার নাম, জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য জানা থাকলে সঠিক খতিয়ান শনাক্ত করা সহজ হয়।

৪. ই-পর্চায় CS, SA, RS ও BS খতিয়ানের মধ্যে পার্থক্য কী?

এগুলো বিভিন্ন সময়ের ভূমি জরিপের রেকর্ড। CS হলো ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে, SA হলো স্টেট অ্যাকুইজিশন, RS হলো রিভিশনাল সার্ভে এবং BS হলো বাংলাদেশ সার্ভে। একই জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন জরিপে আলাদা খতিয়ান নম্বর থাকতে পারে।

৫. ই-পর্চায় জমির তথ্য খুঁজতে কি কোনো টাকা লাগে?

সাধারণ খতিয়ান অনুসন্ধান করে তথ্য দেখার জন্য সাধারণত আলাদা ফি লাগে না। তবে খতিয়ানের অনলাইন কপি বা সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি দিতে হয়।

৬. ই-পর্চা থেকে সার্টিফায়েড কপি পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান অনুসন্ধানের পর সার্টিফায়েড কপির জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন ও ফি পরিশোধের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কপি সংগ্রহ করা সম্ভব।

৭. অনলাইনে দাদার নামে জমি না পাওয়া গেলে কী করব?

প্রথমে মৌজার নাম, জেলা, উপজেলা, জরিপের ধরন এবং মালিকের নামের বানান যাচাই করুন। এরপর পুরোনো দলিল বা খাজনার রসিদ থেকে খতিয়ান ও দাগ নম্বর সংগ্রহ করে আবার অনুসন্ধান করুন। তাতেও না পেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা জেলা রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করুন।

৮. খতিয়ান পাওয়া গেলেই কি জমির মালিক হওয়া যায়?

না। খতিয়ান জমির রেকর্ড বা স্বত্বলিপি, এটি নিজে মালিকানার দলিল নয়। জমির মালিকানা যাচাই করতে দলিল, সর্বশেষ রেকর্ড, নামজারি, উত্তরাধিকার ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র পরীক্ষা করতে হয়।

৯. পৈতৃক জমির দাগ নম্বর কীভাবে জানা যাবে?

পুরোনো দলিল, খতিয়ান, খাজনার রসিদ বা মৌজা ম্যাপ থেকে দাগ নম্বর জানা যেতে পারে। পরিবারের কাছে এসব কাগজ না থাকলে সংশ্লিষ্ট মৌজা ও মালিকের তথ্য দিয়ে সরকারি ভূমি রেকর্ড সেবায় অনুসন্ধান করতে পারেন।

১০. ই-পর্চা ব্যবহার করতে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করব?

ভূমিসেবা-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য সরকারি ভূমিসেবা হটলাইন ১৬১২২-এ যোগাযোগ করা যায়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা রেকর্ড রুমেও যোগাযোগ করতে পারেন।

উপসংহার

পৈতৃক সম্পত্তির অবস্থান ও পরিমাণ সম্পর্কে জানা প্রত্যেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুরোনো দলিল, খতিয়ান বা জমির তথ্য হাতের কাছে না থাকলে অনেক সময় পূর্বপুরুষের নামে থাকা সম্পত্তি খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। ই-পর্চা বা সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই নির্দিষ্ট এলাকার খতিয়ান অনুসন্ধান করা সম্ভব।

বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং জরিপের ধরন নির্বাচন করে মালিকের নাম, খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে জমির রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে সার্টিফায়েড কপির জন্যও আবেদন করা যায়।

তবে অনলাইনে খতিয়ান পাওয়া মানেই জমির বর্তমান মালিকানা নিশ্চিত হওয়া নয়। তাই পৈতৃক জমির তথ্য পাওয়ার পর দলিল, নামজারি, উত্তরাধিকার এবং বাস্তব দখলের বিষয়গুলোও যাচাই করুন। নিজের ও পরিবারের সম্পত্তির সঠিক তথ্য জানতে সরকারি ভূমি সেবা ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা নিন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026