
বিশেষ প্রতিনিধি: আরেফিন মুক্তা
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ দীর্ঘদিন ধরে চলমান চুরির ঘটনার অবশেষে সমাপ্তির ইঙ্গিত মিলেছে। গত ১১ মে এক নারী চোরকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এ সময় চুরি হওয়া মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার হারানোর একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়। বিশেষ করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন হাসপাতালের ভেতরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল এক নারী। তার আচরণে সন্দেহ হলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাকে আটক করে তল্লাশি চালান। এ সময় তার কাছ থেকে একটি চুরি হওয়া মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত নারীকে হেফাজতে নেয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। এ ঘটনায় পুরো হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে আসছিল। অনেকেই মনে করছেন, শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, বরং নিয়মিত মনিটরিং, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী এবং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। চিকিৎসা নিতে এসে যদি মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাহলে সেটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে।
এ ঘটনায় সচেতন মহল দ্রুত হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সিসিটিভি ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এছাড়া স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হাসপাতাল এলাকায় একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।