শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নোয়াখালী রুটে নতুন ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’, চালু হতে লাগবে আরও কত দিন? জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান ঢাবি উপাচার্যের সংঘাতের পরিচিতি ছাড়িয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে মোগাদিশু কীভাবে মাঝ আকাশে জড়িয়ে গেল দুই স্কাইডাইভারের প্যারাস্যুট? দিনাজপুর-ঢাকা রুটে নতুন রেলপথ নির্মাণ করছে সরকার সোমবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি, ভিজতে পারে যেসব বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রে মাঝ আকাশে সংঘর্ষে দুই স্কাইডাইভারের মৃত্যু ৮ নভেম্বরের সরকারি ছুটি নিয়ে যা জানা গেল ইয়েমেনে তিন মাসে ঘরছাড়া ৩ লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষ ৪০ দিনে হাতে কোরআন লিখে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিল ৯ বছরের অরিনা

জীবননগর সীমান্তে বাংলাদেশিকে গুলি করে আটক করল বিএসএফ, জীবিত না মৃত অনিশ্চিত

  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩.১১ পিএম
  • ২৫ Time View
34

মোঃ হুমায়ুন কবির (চুয়াডাঙ্গা)প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয়
সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফের) বিরুদ্ধে। গুলিতে আহত অবস্থায় তাকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি বর্তমানে জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য
পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের বিপরীতে ভারতের পুটিখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলামসহ ছয়-সাতজন স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিএসএফ সদস্যরা লক্ষ্য করে
গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। এতে মনিরুলের পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা
অন্য ছয়জন পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুলকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
তার সঙ্গে থাকা অন্য ছয়জন হলেন—কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন
(২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)। তারা সবাই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকা থেকে একাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে
খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মনিরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং বিএসএফ সদস্যরা তাকে আহত অবস্থায় ধরে নিয়ে গেছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা কিংবা তিনি জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মনিরুল ইসলামের পরিবার জানান,তারা ঘটনা শুনেছে। তবে তার কি অবস্থা তা সঠিক ভাবে তারা বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য
পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ৫৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক (টু-আইসি) মেজর তাহসিন জানান, হরিহরনগর সীমান্তে গুলিবর্ষণের পর বিএসএফ একজনকে ধরে নিয়ে গেছ,এমন খবর তারা পেয়েছেন। তবে আটক ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় শনিবার (৭ নভেম্বর)
বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে গুলিবর্ষণের পর বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় হরিহরনগরসহ আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আটক মনিরুলের প্রকৃত শারীরিক অবস্থা এবং তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবার ও
স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান ও
শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026