
মোঃ আরেফিন মুক্তা – মুকসুদপুর উপজেলা প্রতিনিধি।
পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে মানুষের কর্মস্থলে স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলার ও দূরপাল্লার পরিবহনগুলোতে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনব্যাপী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোল পাম্প ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ ধীরে ধীরে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় জ্বালানি তেলের চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি চালানো হয়েছে।
তদারকির সময় ইউএনও সরেজমিনে পেট্রোল পাম্পগুলো পরিদর্শন করে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি, সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কিনা এবং গ্রাহকরা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলারদের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হয়। ইউএনও স্পষ্টভাবে বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা সরকারি মূল্য অমান্য করে বিক্রি করতে চায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস ও পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হয়। যাত্রীদের স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাসগুলো নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলাচল করছে কিনা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ বা বড় উৎসবের সময় সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়, সেদিকে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে।
মাহমুদ আশিক কবির বলেন, “ঈদ পরবর্তী সময়ে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বার্থে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসাধু কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না। স্থানীয় জনগণও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এতে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।