
অনিক রায়, ফরিদপুর প্রতিনিধি : আজকের জাগরণ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণের কল্যাণ ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ফরিদপুরকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো জনগণ, কারণ রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার উৎস জনগণই।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত বিএনপির বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এবং ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণার মাধ্যমে যদি এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নত হয় ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তাহলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।” তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কাজ করতে চায়।

ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা নদীভাঙনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পদ্মা নদীসহ এ অঞ্চলের নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন।
নারী ও শিশুদের উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করবে। একই সঙ্গে গ্রাম ও শহরের ঘরে ঘরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষিত হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পানির সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পদ্মা নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনে বিএনপি অগ্রাধিকার দেবে।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের এক নেতা নারী ও মা-বোনদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—১৯৭১ সালেও ওই গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল নিন্দনীয়।
দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সঠিক নীতি, সুশাসন ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চল কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ—অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।”
জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে দেশের মানুষ পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে। শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পর ফরিদপুরে এমন বড় রাজনৈতিক সমাবেশ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।