
রংপুর প্রতিনিধি:আজকের জাগরণ
অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তা নদীর দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে একটি টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সোমবার (আজ) বেলা ১১টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গাজীর ঘাট এলাকায় তিস্তা নদী পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে বন, পরিবেশ ও পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তিস্তা সড়ক সেতু পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার নকশা ও কারিগরি দিকসমূহ উপস্থাপন করেন। পরে তিনি চীনের রাষ্ট্রদূতসহ তিস্তা রেলসেতু সংলগ্ন এলাকায় নৌকাভ্রমণ করেন। এরপর কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গাজীর ঘাট এলাকায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ঘুরে দেখেন।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে পানিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন,
‘আমরা আজ এখানে এসেছি মূলত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখতে এবং আপনাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে। চীনের রাষ্ট্রদূত নিজে উপস্থিত হওয়াই প্রমাণ করে—এই প্রকল্পে চীন কতটা আন্তরিক। আমরা কোনো তড়িঘড়ি করে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের দিকেই এগোচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।’
তিনি আরও বলেন,
‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও চীন সরকার—উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে প্রকল্পটি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় আমাদের একসঙ্গে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হচ্ছে—বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়ন। এসব দিক সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করতেই চীন কিছুটা সময় নিচ্ছে।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে হতাশা না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন,
‘হতাশা ছড়িয়ে কোনো লাভ নেই। বরং আশার কথাই বেশি। একজন রাষ্ট্রদূত এসেছেন, আমি এসেছি—এর মানে নিশ্চয়ই এখানে বড় সম্ভাবনা আছে বলেই আমরা এসেছি। আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খনন ও তীর সংরক্ষণের কাজ করতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে আপনাদের আর ঘরবাড়ি হারাতে না হয়।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা, রিভারাইন পিপলের পরিচালক তুহিন ওয়াদুদ, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নদী বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।