
ফরিদপুর প্রতিনিধি
১৫ সেপ্টেম্বর, সোমবার
ফরিদপুরে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ও পুরোনো সীমানা বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধরা উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, উপজেলা অফিসার্স ক্লাব, হাইওয়ে থানা ও পৌরসভায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১টার দিকে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী লাঠিসোঁটা, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিলসহ মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধে যোগ দেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তারা হামলা চালায়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট রাসেল জানান, “আন্দোলনকারীরা এক থেকে দেড় হাজার জন একসঙ্গে থানায় হামলা চালায়। দুতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষ লন্ডভন্ড করেছে, এমনকি টয়লেটের কমোড পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছে। সবার হাতে ছিল বড় রামদা আর বাঁশের লাঠি। আমি গোপন টয়লেটে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছি। আজ মনে হচ্ছে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, থানার সব গাড়ি, অফিসারদের মোটরসাইকেল ও রেকার পর্যন্ত ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। “ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক একটি ব্যস্ত সড়ক। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। এখন দুর্ঘটনা হলে আমরা কীভাবে ঘটনাস্থলে যাব, সব গাড়ি ভাঙচুর হয়ে গেছে,” ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, “আমাদের থানার বড় আটটি গাড়িসহ অন্তত ২০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরা এখন পঙ্গু। নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি।”
অন্যদিকে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান জানান, “ইউএনও কার্যালয়ের কিছু অংশে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। নির্বাচন কার্যালয়েও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে আন্দোলনকারীরা।”
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।