বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজা উদযাপনে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রস্তুতিমূলক সভা গোপালগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স গোপালগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় উদযাপিত জাতীয় কন্যাশিশু দিবস গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান খান্দারপাড়া ইউপির সভায় গোপালগঞ্জে শিশু-কিশোর ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ গোপালগঞ্জে উপাচার্য বললেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে প্রান্তিক মানুষই বড় ভরসা নীলফামারীতে বিশ্ব শিশু সপ্তাহ আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান দিনাজপুরে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন নীলফামারীতে বিশ্ব বসতি দিবস এর বর্ণ্যাঢ্য র‍্যালীও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’

  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২.৫৯ পিএম
  • ১৫৫ Time View
হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’
হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’
234

আরিফুল ইসলাম আরিফ, নীলফামারী প্রতিনিধি:

হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে প্রতিদিন ভোর হয় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শতবর্ষী এই পাখির আবাসস্থলের কারণে গ্রামটি এখন সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘পাখির গ্রাম’ নামে।

চারদিকে সবুজের সমারোহ। মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক বাঁশঝাড়। আর সেই বাঁশঝাড়জুড়ে বাসা বেঁধেছে বক, পানকৌড়ি, রাতচোরা, ঘুঘু, শ্যামা, দোয়েল, শালিক, বাবুই, চড়ুইসহ নানা প্রজাতির পাখি। সারাদিন তাদের কলকাকলিতে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এসব পাখি এখানে বসবাস করে আসছে। পাখিদের কারণেই পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের পরিচয় বদলে গেছে। এখন দূর-দূরান্তের মানুষও গ্রামটিকে ‘পাখির গ্রাম’ নামেই চেনেন।

ডোমার উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলাহাটিতে প্রায় ৪ একর ২০ শতক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বাঁশঝাড়কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে পাখিদের নিরাপদ আবাস। বাঁশঝাড়ের মালিকরাও এর পাশেই বসবাস করেন। তাদের ভাষ্য, পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এখানে পাখিরা বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও যেন পাখিগুলো নিরাপদে থাকতে পারে, সে জন্য তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

রাতভর বাঁশঝাড়ে অবস্থান করে পাখিরা। ভোর হতেই কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখর করে খাবারের সন্ধানে উড়ে যায়। পাখিদের কলতানেই প্রতিদিন ঘুম ভাঙে গ্রামের মানুষের। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ভিড় করেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা।

তবে যুগের পর যুগ নিরাপদে বসবাস করে আসা এই পাখিগুলো এখন নানা হুমকির মুখে। অবৈধ শিকার ও পরিবেশগত কারণে দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাঁশঝাড়ের মালিকসহ এলাকার সচেতন মানুষ।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, স্থানীয় পাখির পাশাপাশি শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিও এসে এই পাখির গ্রামে আশ্রয় নেয়। তবে অবৈধ শিকার, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে শতবর্ষী এই প্রাকৃতিক পাখির আবাসস্থল অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়তে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাখিদের সংরক্ষণ ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026