শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মুকসুদপুরে বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ইউনিটি গ্রুপের সম্মেলন গোপালগঞ্জে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজা উদযাপনে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রস্তুতিমূলক সভা গোপালগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স গোপালগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় উদযাপিত জাতীয় কন্যাশিশু দিবস গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান খান্দারপাড়া ইউপির সভায় গোপালগঞ্জে শিশু-কিশোর ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ গোপালগঞ্জে উপাচার্য বললেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে প্রান্তিক মানুষই বড় ভরসা নীলফামারীতে বিশ্ব শিশু সপ্তাহ আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

টানা বর্ষণে স্থবির মুকসুদপুরের জনজীবন আষাঢ়ের টানা রিমঝিম বর্ষণে সারাদেশের মতো

  • Update Time : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১.৪৯ পিএম
  • ২৭৭ Time View
368

স্টাফ রিপোর্টার | আজকের জাগরণ 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ইজিবাইক চালক ও দিনমজুরদের আয় প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অধিকাংশ মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

টানা বর্ষণে মুকসুদপুর পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে হাঁটুপানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী, কর্মজীবী মানুষ এবং যানবাহন চালকদের প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষ করে মুকসুদপুর বাজারের ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স এলাকা থেকে গোপীনাথপুর তিন রাস্তার মোড়, কোয়ালিটি লার্নার স্কুল হয়ে গোপীনাথপুর চরপাড়া পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত হাঁটুপানি জমে রয়েছে। গোপীনাথপুর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা সড়ক টানা বৃষ্টিতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি দ্রুত নামতে না পারায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগও ধীরগতির হয়ে গেছে।

চলমান পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভিজে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হচ্ছে। পাশাপাশি হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রধান প্রধান সড়কে মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। পুরান বাজার, টেংরাখোলা চৌরঙ্গী মোড়, কলেজ গেট, সোনালী ব্যাংক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পরিবহনে যাত্রীসংখ্যা ছিল নগণ্য। অনেক দোকানপাটও ছিল ফাঁকা।

কিছু ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচল করলেও চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী।

স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ী দোলা কাউন্টারের মালিক আরিফিন মুক্তা বলেন, “প্রায় এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির কারণে পরিবহনে যাত্রী অনেক কম। বৃষ্টি থেমে গেলে আবার যাত্রী বাড়বে বলে আশা করছি।”

মুকসুদপুর সদর এলাকার ভ্যানচালক পান্নু শেখ (৪৫) বলেন, “সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কোনো মানুষ নেই। সারাদিন এমন বৃষ্টি হলে রাতে ঘরে চাল কেনার টাকাও থাকবে না।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

fd43f8d18c7312b2a8b90a5edc5903e9
© All rights reserved © 2026