
মাত্র ১২৫ সিসি ইঞ্জিনের একটি মোটরসাইকেল থেকে ১৫ বিএইচপি শক্তি! শুনতে অবাক লাগলেও নতুন RTR 125 মডেলে এমনই পারফরম্যান্সের দাবি করেছে ভারতের মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান TVS। ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত EICMA 2026 প্রদর্শনীতে মোটরসাইকেলটি উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্পোর্টি ডিজাইন, শক্তিশালী ইঞ্জিন, ছয় গতির গিয়ারবক্স, উন্নত সাসপেনশন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন এই বাইকটি ১২৫ সিসি সেগমেন্টে আলাদা অবস্থান তৈরি করতে পারে।
সাধারণত ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলকে দৈনন্দিন যাতায়াতের উপযোগী কমিউটার বাইক হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে TVS RTR 125 সেই প্রচলিত ধারণা থেকে কিছুটা ভিন্ন। বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে লিকুইড-কুলড, চার-ভালভ DOHC ইঞ্জিন। এর সর্বোচ্চ শক্তি ১৫ বিএইচপি এবং টর্ক ১২ নিউটন-মিটার। ছোট ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেলে এমন শক্তির সমন্বয় একে পারফরম্যান্সপ্রত্যাশী তরুণ চালকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ছয় গতির গিয়ারবক্স এবং স্লিপার ক্লাচ। সাধারণ ১২৫ সিসির কমিউটার মোটরসাইকেলে যেখানে পাঁচ গতির গিয়ারবক্স বেশি পরিচিত, সেখানে ছয় গতির গিয়ারবক্স বাইকটির স্পোর্টি চরিত্রকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। স্লিপার ক্লাচ দ্রুত গিয়ার কমানোর সময় পেছনের চাকায় অতিরিক্ত চাপ বা ঝাঁকুনি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে বাইকটির গতি, ত্বরণ ও চালানোর অনুভূতি কেমন হবে, তা জানতে বিস্তারিত রাইডিং পরীক্ষার ফল প্রয়োজন।
ডিজাইনের দিক থেকেও নতুন RTR 125-এ প্রচলিত কমিউটার বাইকের চেয়ে আগ্রাসী ভাব রাখা হয়েছে। TVS-এর Apache সিরিজের নকশার প্রভাব দেখা যায় এর সামগ্রিক গঠনে। সামনে রয়েছে ধারালো আকৃতির LED প্রজেক্টর হেডল্যাম্প এবং আলাদা দিনের আলোয় দৃশ্যমান হওয়ার জন্য DRL। ফলে বাইকটির সামনের অংশে একটি স্পোর্টস স্ট্রিটফাইটার ধরনের চেহারা তৈরি হয়েছে। তরুণ ক্রেতাদের কাছে এই নকশা বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
মোটরসাইকেলটির কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রেলিস ফ্রেম। এর সঙ্গে রয়েছে কাস্ট সুইংআর্ম। সাধারণ যাতায়াতের বাইকের পরিবর্তে স্পোর্টি রাইডিংয়ের কথা মাথায় রেখে এই ধরনের চ্যাসিস ও কাঠামোগত উপাদান নির্বাচন করা হয়েছে। বাইকের নিয়ন্ত্রণ, স্থিতিশীলতা এবং বাঁক নেওয়ার সময় ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এসব উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকৃত পারফরম্যান্স নির্ভর করবে বাইকের সামগ্রিক সেটআপ ও রাস্তায় পরীক্ষার ফলের ওপর।
সাসপেনশন ও ব্রেকিং ব্যবস্থাতেও প্রিমিয়াম সরঞ্জাম যুক্ত করেছে TVS। RTR 125-এ রয়েছে KYB সাসপেনশন এবং ByBre ব্রেকিং সিস্টেম। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে সুইচেবল ডুয়াল-চ্যানেল ABS। ডুয়াল-চ্যানেল অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম সামনের ও পেছনের উভয় চাকায় ব্রেক করার সময় চাকা লক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। আর সুইচেবল সুবিধার কারণে চালক নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ABS ব্যবস্থার সেটিং পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে কোন রাইডিং পরিস্থিতিতে কীভাবে এই সুবিধা কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।
প্রযুক্তির দিক থেকেও বাইকটিকে আধুনিক করে তুলেছে TVS। এতে রয়েছে পাঁচ ইঞ্চির TFT ডিজিটাল ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লেতে নেভিগেশন মিররিং সুবিধা রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংযুক্ত ডিভাইসের নেভিগেশন তথ্য পর্দায় দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া রয়েছে মাল্টি-ওয়ে কানেক্টিভিটি, রাইডিং মোড এবং LED লাইটিং ব্যবস্থা। ফলে মোটরসাইকেলটি শুধু ইঞ্জিনের শক্তি বা নকশার ওপর নির্ভর করছে না; বরং ডিজিটাল সুবিধার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে বাংলাদেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য এখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, TVS RTR 125 কি বাংলাদেশে আসবে? EICMA 2026-এ মোটরসাইকেলটির ইউরোপীয় বাজারকে সামনে রেখে আত্মপ্রকাশের তথ্য পাওয়া গেলেও ভারতের বাজারে বিক্রির বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা নেই। একইভাবে বাংলাদেশে কবে আসবে, কী দামে পাওয়া যাবে কিংবা স্থানীয় বাজারের জন্য আলাদা কোনো সংস্করণ তৈরি হবে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের ক্রেতাদের একটি বড় অংশ জ্বালানি সাশ্রয়, দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও বিক্রয়োত্তর সেবাকে গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে স্পোর্টি ডিজাইন, বেশি শক্তি এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী ক্রেতারাও রয়েছেন। TVS RTR 125-এর মতো একটি মডেল বাজারে এলে এই দুই ধরনের চাহিদার মধ্যে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর দাম, ওজন, মাইলেজ, সার্ভিসিং খরচ ও স্থানীয় যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা জানা না গেলে বাংলাদেশের বাজারে এর সম্ভাবনা সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা দেওয়া সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে ১৫ বিএইচপি শক্তির ইঞ্জিন, ছয় গতির গিয়ারবক্স, স্লিপার ক্লাচ, KYB সাসপেনশন, ByBre ব্রেক, সুইচেবল ডুয়াল-চ্যানেল ABS এবং পাঁচ ইঞ্চির TFT ডিসপ্লে নিয়ে TVS RTR 125 একটি আকর্ষণীয় স্পোর্টি মোটরসাইকেল হিসেবে সামনে এসেছে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের এখনই অপেক্ষা করতে হবে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ ঘোষণা ও বিস্তারিত মূল্যতথ্যের জন্য।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
ঠিকানা: ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
news@ajkerjagaran.com
Copyright © 2026 আজকের জাগরণ All rights reserved.