
মিশর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব হারিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি সাবেক ফুটবলার হোসাম হাসান। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরও তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাঁর জায়গায় নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলী মাহের। সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত ঘটনা জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার ম্যাচটি হোসাম হাসানের জন্য বড় আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মিশর প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধ মিলিয়ে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু শেষদিকে তিনটি গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয় দলটি। ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হোসাম হাসান। বিশেষ করে মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল এবং পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ জানায়। ফলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচটি ঘিরে মিশরীয় ফুটবলে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হয়।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের পর রেফারির সমালোচনা করায় ফিফার কাছ থেকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও পান হোসাম হাসান। তবে তাঁর চাকরি হারানোর কারণ হিসেবে শুধু এই ঘটনাকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। কারণ মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার নাম উল্লেখ করেনি। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা এবং সেগুলোর প্রভাব বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং গণমাধ্যমে উপস্থিতির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও উঠে এসেছে। ফলে আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কসহ সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা তাঁর বিদায়ের আলোচনায় জায়গা পেয়েছে।
হোসাম হাসানের বিদায়কে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, বিশ্বকাপে সাফল্যের পরও তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিশর জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন দেশটির সাবেক এই তারকা ফুটবলার। তাঁর অধীনে ৩৮টি ম্যাচ খেলেছে মিশর। এর মধ্যে ২১টি জয়, ১০টি ড্র এবং সাতটি ম্যাচে পরাজয়ের মুখ দেখেছে দলটি। ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে চতুর্থ স্থান অর্জনের পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছানো ছিল তাঁর মেয়াদের উল্লেখযোগ্য অর্জন। এসব সাফল্যের কারণে তাঁর ওপর আস্থা রেখে বিশ্বকাপের পর ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিল মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু সেই চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে বিদায় নিতে হলো।
হোসাম হাসানের জায়গায় দায়িত্ব পাওয়া আলী মাহের মিশরের ঘরোয়া ফুটবলে পরিচিত একজন কোচ। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি সিরামিকা ক্লিওপেট্রার প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর অধীনে দলটি ২০২৪-২৫ মৌসুমে মিশরীয় লিগ কাপ জিতেছিল। পাশাপাশি স্থানীয় ফুটবলে দলটির পারফরম্যান্সেও উন্নতি দেখা যায়। এবার জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে নতুন এক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কোচিং স্টাফ গঠনের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার দায়িত্বও দিয়েছে।
নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আলী মাহেরের সামনে প্রথম বড় পরীক্ষা আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্ব। ২০২৭ সালের এই প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে মিশর। আগামী ১৩ ও ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ম্যাচ দুটি। এই দুই ম্যাচের ফলাফল দলের পরবর্তী পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বাছাইপর্বের গ্রুপ বি-তে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মিশর। প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে জয় এবং অন্যটিতে ড্র করেছে ফারাওরা। নতুন কোচের অধীনে সেই অবস্থান ধরে রাখাই এখন দলের অন্যতম লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে হোসাম হাসানের বিদায় মিশরীয় ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যে কোচের অধীনে ৯২ বছর পর বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছিল মিশর, সেই কোচকেই কয়েক মাসের ব্যবধানে দায়িত্ব ছাড়তে হলো। বিশ্বকাপে প্রথম জয়, শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়া এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়নের পরও তাঁর অধ্যায়ের এমন সমাপ্তি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। তবে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্তের পেছনে ঠিক কোন ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। এখন দেখার বিষয়, আলী মাহেরের অধীনে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে মিশর জাতীয় দল কতটা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে এবং আসন্ন আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে কি না।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
ঠিকানা: ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
news@ajkerjagaran.com
Copyright © 2026 আজকের জাগরণ All rights reserved.