
ইন্টার মায়ামির মাঠে ছয় গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পেল না কোনো দল। মেজর লিগ সকারের নিয়মিত মৌসুমের ম্যাচে শার্লট এফসির সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামি। ৭ নভেম্বর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে দুর্দান্ত আধিপত্য দেখিয়ে তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেই ব্যবধান মুছে দেয় শার্লট। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোল করে সফরকারীরা। ফলে নিজেদের মাঠে জয়ের সুযোগ হারিয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় মেসিদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইন্টার মায়ামি। নিজেদের মাঠে দর্শকদের সমর্থন নিয়ে শার্লটের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা। ১৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ান ফ্রে। প্রথম গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মায়ামি। ৩৩ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে লুইস সুয়ারেজ গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে তৃতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেছিল স্বাগতিকরা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে নিজেদের খেলার ধরন পরিবর্তন করে শার্লট এফসি। তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও হাল না ছেড়ে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় সফরকারীরা। এর ফল পেতে বেশি সময় লাগেনি। ৫০ মিনিটে প্রথম গোল করে ব্যবধান কমান লিয়েল আবাদা। সতীর্থের বাড়ানো বল থেকে দারুণভাবে জালে বল পাঠান তিনি। প্রথম গোলের পর শার্লটের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। মাত্র পাঁচ মিনিট পর, ৫৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন আবাদা। পরপর দুটি গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে ম্যাচে সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে শার্লট। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যাওয়ায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
দুই গোল করার পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে শার্লট। ম্যাচের বাকি সময়ে সমতাসূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সফরকারীরা। অন্যদিকে নিজেদের লিড ধরে রাখতে রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মায়ামি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের উত্তেজনাও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখা পায় শার্লট। টাইগার স্মলসের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন বদলি খেলোয়াড় রদলফো আলোকো। তার গোলেই ৩-৩ সমতায় ফিরে আসে সফরকারীরা। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হতাশ হয়ে পড়ে মায়ামির খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। যোগ করা সময়ে লিওনেল মেসির একটি শটও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে জয়সূচক গোলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিল ইন্টার মায়ামি। বল দখলে ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের, যেখানে শার্লটের দখলে ছিল ৪০ শতাংশ। মোট ১৫টি শট নেয় মায়ামি এবং শার্লট নেয় ১১টি। তবে দুই দলই পাঁচটি করে শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও ২.০৬ নিয়ে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা, যেখানে শার্লটের ছিল ১.৭৩। প্রতিপক্ষের বক্সে স্পর্শের সংখ্যায়ও ২৬-২০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মায়ামি। অন্যদিকে বড় সুযোগ তৈরিতে চারটি নিয়ে এগিয়ে ছিল শার্লট, মায়ামির ছিল তিনটি। অর্থাৎ আক্রমণ ও বল দখলে এগিয়ে থেকেও সুযোগের সদ্ব্যবহার এবং শেষ মুহূর্তের রক্ষণ সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় জয় হাতছাড়া হয় মায়ামির। গোল না পেলেও আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিওনেল মেসি।
এই ড্রয়ের ফলে নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে শেষ করতে পারল না ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে তিন গোল পিছিয়ে থেকেও সমতায় ফেরায় শার্লটের জন্য ম্যাচটি হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উপলক্ষ। বিশেষ করে লিয়েল আবাদার জোড়া গোল এবং শেষ মুহূর্তে রদলফো আলোকোর গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মায়ামির সমর্থকদের জন্য হতাশার হলেও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। তিন গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে না পারার কারণে মায়ামির রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত মৌসুম শেষ হওয়ার পর এখন দলটির সামনে প্লে-অফের চ্যালেঞ্জ। সেখানে ভালো ফল করতে হলে রক্ষণভাগের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণের ধারাবাহিকতাও ধরে রাখতে হবে। অন্যদিকে শার্লট এই প্রত্যাবর্তন থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী লড়াইয়ে নামতে চাইবে।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
ঠিকানা: ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
news@ajkerjagaran.com
Copyright © 2026 আজকের জাগরণ All rights reserved.