
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালাতে হলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি অনুমোদন নিতে হবে। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ই-রিকশা প্রস্তুত করে বুয়েটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে। শুধু আবেদন ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন পাওয়া যাবে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানীতে ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত আবেদন ফরম বিক্রি করে সংস্থাটি। প্রথম দিনে মোট ১ হাজার ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ১০০ টাকা। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে মালিক ও চালকেরা ফরম সংগ্রহ করেন। তবে যাঁদের একটি রিকশা রয়েছে, তাঁরাই শুধু ফরম সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
ডিএসসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুয়েটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রথম পর্যায়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার কিংবা সর্বোচ্চ ২ হাজার ই-রিকশাকে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ই-রিকশাকে নির্ধারিত কারিগরি ও নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে হবে।
নিবন্ধনের জন্য প্রথমে ই-রিকশাকে নির্ধারিত মডেল ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে। এরপর বুয়েটের অনুমোদন বা ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। কারিগরি অনুমোদন পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ জারিকৃত ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর শর্ত পূরণ করে সিটি করপোরেশনে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদনকারীর জন্য কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ এবং নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
এদিকে ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলতে পারবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় জোনের সীমানা এবং এলাকাভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ ঠিক করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ বন্ধ করতে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন নিবন্ধনব্যবস্থার মাধ্যমে ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় ডিএসসিসি। তবে প্রথম পর্যায়ে কতটি ই-রিকশা চূড়ান্তভাবে নিবন্ধনের অনুমোদন পাবে, তা বুয়েটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
ঠিকানা: ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
news@ajkerjagaran.com
Copyright © 2026 আজকের জাগরণ All rights reserved.