
ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের যুব সংগঠন যুব কংগ্রেসের প্রায় ২০০ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সমাবেশে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া নেতাদের একজন রোহিত রাজোরিয়া দাবি করেছেন, চাচার মৃত্যুর ১৩তম দিনের স্মরণসভায় যোগ দেওয়ার কারণে তিনি সমাবেশে যেতে পারেননি। বিষয়টি আগেই দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন তিনি। তবু তাঁকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির হাতে আসা বরখাস্তের চিঠি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সাত রাজ্যের অন্তত ১৮৫ জন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিষয়ক পর্যালোচনা শেষে বরখাস্তের সংখ্যা ৫০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যুব কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করার পরও একটি সমাবেশে অনুপস্থিতির কারণে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রোহিত রাজোরিয়াকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, দলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁরা মামলা ও কারাবরণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এরপরও একটি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজোরিয়ার দাবি, ১৫ বছর ধরে তিনি দলের জন্য কাজ করছেন। বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টি এফআইআর হয়েছে এবং তিন থেকে চারবার কারাগারেও যেতে হয়েছে। চাচার মৃত্যুর পর ১৩তম দিনের স্মরণসভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি এবং ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর সমাবেশে যেতে না পারার কারণ আগেই দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন।
একটি কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে সরাসরি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজোরিয়া। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের কর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ সংগঠনের জন্য ইতিবাচক নয়। এ পরিস্থিতিতে দল কীভাবে আবার ক্ষমতায় ফেরার আশা করছে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
যুব কংগ্রেসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সদস্য বরখাস্ত করা হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যটিতে ৬০ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গুজরাটে ৪৯, পশ্চিমবঙ্গে ২৬, তেলেঙ্গানায় ১৪, উত্তর প্রদেশের মধ্যাঞ্চলে ১৩, হিমাচল প্রদেশে ১৩ এবং হরিয়ানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ১ নভেম্বরের সমাবেশের আগে যুব কংগ্রেসের জাতীয়, রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের সদস্যদের মিছিল ও সমাবেশে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দিল্লির মিন্টো রোডে বারকোড স্ক্যানারের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
যুব কংগ্রেসের দাবি, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মিছিলে অংশ নিতে মিন্টো রোডে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল অ্যাপে উপস্থিতি নিবন্ধন করেন মাত্র ২ হাজার ৮৩১ জন।
অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উপস্থিতি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কয়েকটি সমস্যার কথা উঠে এসেছে। মিন্টো রোড থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত এলাকায় দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, কর্মীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি এবং অ্যাপে উপস্থিতি নিবন্ধনে অনাগ্রহকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সংগঠনের হিসাবে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য কোনো আগাম তথ্য না দিয়েই সমাবেশে অনুপস্থিত ছিলেন।
যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব এনডিটিভিকে বলেন, সমাবেশে ১৫ হাজারের বেশি কর্মীর উপস্থিতি ছিল এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অধিকাংশ কর্মী মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। তবে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও কয়েকজন পদধারী শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি। সংগঠনের মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়ে তাঁদের জায়গায় পরিশ্রমী কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে দিল্লিতে ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
ঠিকানা: ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
news@ajkerjagaran.com
Copyright © 2026 আজকের জাগরণ All rights reserved.